ব্লুটুথ চালু রাখলে কী তথ্য ফাঁস হয়
ব্লুটুথ স্ক্যানার Bluehood তৈরির গল্প। সাধারণ ডিভাইসেও কীভাবে আমাদের দৈনন্দিন জীবনের গোপন তথ্য ফাঁস হয়ে যায়, তা জানুন।
ডার্ক ওয়েবের কথা শুনলে হয়তো চোখের সামনে ভাসে মাদক, অপরাধ আর অন্ধকার এক জগতের ছবি। কিন্তু এই ডার্ক ওয়েব আর ডিপ ওয়েব কি একই জিনিস? নাকি দুটির মধ্যে পার্থক্য আছে?
অনেকেই ভুল করে এই দুটি শব্দকে একই অর্থে ব্যবহার করেন। ধরে নেন দুটোই এক জায়গা—যেখানে কেবল অবৈধ ও সন্দেহজনক কাজ চলে। কিন্তু বাস্তবে ডার্ক ওয়েব হলো ডিপ ওয়েবের একটি ক্ষুদ্র অংশ মাত্র। আর সব ডিপ ওয়েব মোটেও ডার্ক ওয়েব নয়।
মূল আলোচনায় যাওয়ার আগে আরেকটি শব্দ সম্পর্কে জানা দরকার। আমরা সচরাচর যে ইন্টারনেট ব্যবহার করি, তাকে বলা হয় “সারফেস ওয়েব” (Surface Web) বা “উন্মুক্ত ওয়েব”। গুগলে সার্চ করলেই যেসব ওয়েবসাইট খুঁজে পাওয়া যায়, সেটাই সারফেস ওয়েব।
উদাহরণস্বরূপ, আপনি এখন যে লেখাটি পড়ছেন, সেটি সারফেস ওয়েবের অংশ। সি-নেট (CNET)-এর হোমপেজ, ফেসবুকের লগইন পেজ—সবই সারফেস ওয়েবের আওতায় পড়ে। আপনার পরিচিত ইন্টারনেটের সিংহভাগই এই সংজ্ঞার মধ্যে আসে।
কিন্তু ডিপ ওয়েব বা ডার্ক ওয়েবের ক্ষেত্রে বিষয়টি ভিন্ন। ক্রোম ব্রাউজার খুলে গুগল সার্চে আপনি ডার্ক ওয়েবের কোনো পেজ খুঁজে পাবেন না। ডিপ ওয়েবের ক্ষেত্রে প্রতিটি সাইট বা পেজে আলাদাভাবে প্রবেশ করতে হয়। আর ডার্ক ওয়েবে যেতে হলে বিশেষ ব্রাউজারের প্রয়োজন হয়।
ডিপ ওয়েবকে অনেকে “লুকানো ওয়েব” বা “হিডেন ওয়েব”-ও বলেন। এখানকার কনটেন্টগুলো সার্চ ইঞ্জিনে ইনডেক্স করা থাকে না বা খুঁজে পাওয়া যায় না। এর বেশিরভাগই থাকে পাসওয়ার্ড বা লগইন পেজের আড়ালে। এর মধ্যে রয়েছে অনলাইন ব্যাংকিং, ইমেইল ইনবক্স এবং পেওয়ালের (টাকা দিয়ে দেখতে হয় এমন) আড়ালে থাকা কনটেন্ট, যেমন বিভিন্ন স্ট্রিমিং সাইট।
ধরুন, নেটফ্লিক্সের হোমপেজ আপনি গুগলে পাবেন, কিন্তু “লাভ ইজ ব্লাইন্ড” সিজন ৯-এর কোনো পর্ব দেখতে হলে আপনাকে অবশ্যই সাইটে লগইন করতে হবে। এ ছাড়া ডিপ ওয়েবে নানা ধরনের প্রোটোকল পেজ থাকে, যা আপনার লগইন ভেরিফাই করে বা পেমেন্ট প্রসেস করে—এগুলো সাধারণ ব্যবহারকারীর দেখার প্রয়োজন হয় না।
সংক্ষেপে বলতে গেলে, ইন্টারনেটের মেরুদণ্ডই হলো ডিপ ওয়েব। আমরা অজান্তেই এর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করি। সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ‘ক্রাউডস্ট্রাইক’-এর তথ্যানুযায়ী, অনলাইনের ৯০ শতাংশের বেশি কনটেন্ট বা তথ্য ডিপ ওয়েবেই রয়েছে।
ডিপ ওয়েবের পেজগুলো সার্চ ইঞ্জিনে না থাকলেও, এগুলোর নির্দিষ্ট ইউআরএল বা লিংক থাকে। ক্রোম বা ফায়ারফক্সের মতো সাধারণ ব্রাউজার দিয়েই এগুলোতে প্রবেশ করা সম্ভব (যদি আপনার কাছে এক্সেস থাকে)।
দৈনন্দিন জীবনে আমরা প্রায়ই সারফেস ওয়েব ও ডিপ ওয়েবের মধ্যে আসা-যাওয়া করি, হয়তো খেয়ালই করি না। ব্যাংকের ওয়েবসাইট খুললে তা সারফেস ওয়েব। আইপি ও পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করার পর ব্যালেন্স দেখার পেজটি হলো ডিপ ওয়েব। ইউটিউব ভিডিও খুললে তা সারফেস ওয়েব, কিন্তু অ্যাকাউন্ট সেটিংসে গেলে আপনি ডিপ ওয়েবে প্রবেশ করলেন।
তবে ভয়ের কিছু নেই। নিয়মিত ডিপ ওয়েব ব্যবহার করলেই যে আপনি ডার্ক ওয়েবে চলে যাবেন, এমনটা ভাবার কোনো কারণ নেই।
ডার্ক ওয়েব হলো ডিপ ওয়েবেরই একটি উপবিভাগ বা সাব-সেকশন। তবে আয়তনে এটি বেশ ছোট। ডিপ ওয়েবের মতো একে ক্রোম বা ফায়ারফক্স দিয়ে সহজে অ্যাক্সেস করা যায় না। কারণ এটি শুধু লগইন পেজ দিয়ে আড়াল করা নয়, এর গঠনপদ্ধতি ভিন্ন।
ডার্ক ওয়েব বিশেষ এনক্রিপশন ও রাউটিং প্রযুক্তির মাধ্যমে সাইটগুলোকে গোপন রাখে। এটি প্রক্সি সার্ভারের মাধ্যমে ট্রাফিক পরিচালনা করে, যেখানে কোনো কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ থাকে না। এটিও প্রযুক্তিগতভাবে ডিপ ওয়েবের অংশ, কিন্তু এমন একটি অংশ যেখানে সাধারণ ব্যবহারকারীদের ভুলক্রমেও পা ফেলার সুযোগ নেই।
ডার্ক ওয়েবে প্রবেশ করতে বিশেষ সফটওয়্যার বা ব্রাউজার লাগে, যেমন—টর (Tor)। ফেসবুক বা অন্যান্য সাধারণ সাইট ব্রাউজ করতে আমরা যেমন ক্রোম ব্যবহার করি, ডার্ক ওয়েব দেখতেও তেমনি বিশেষায়িত ব্রাউজার প্রয়োজন।
এখানে সাইটগুলোর ঠিকানা সাধারণত আগে থেকে জানা থাকতে হয়। এগুলোর শেষে সাধারণ ‘.com’-এর বদলে ‘.onion’ থাকে। ডার্ক ওয়েবের নিজস্ব কিছু সার্চ ইঞ্জিন আছে—যেমন আহমিয়া (Ahmia), টর্চ (Torch), এমনকি ডাকডাকগো (DuckDuckGo)-এর বিশেষ সংস্করণ। তবে এগুলো গুগলের মতো এতটা শক্তিশালী বা গোছানো নয়।
বিশেষ প্রোটোকল ব্যবহার করায় এই সাইটগুলোর ট্রাফিক বা ব্যবহারকারীর তথ্য প্রায়শই গোপন ও নাম-পরিচয়হীন (anonymous) থাকে। আর ঠিক এই কারণেই অবৈধ কাজের জন্য ডার্ক ওয়েব অপরাধীদের কাছে এত জনপ্রিয়। এখানকার লেনদেন বা কার্যক্রম সহজে নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির নামে ট্রেস করা যায় না। কেনাকাটার ক্ষেত্রে গোপনীয়তা রক্ষায় সাধারণত বিটকয়েনের মতো ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহার করা হয়।
“ডার্ক ওয়েব” শুনলে হয়তো চোখের সামনে ভেসে ওঠে এক গোপন ভূগর্ভস্থ নেটওয়ার্কের ছবি, যেখানে মাদক, অবৈধ পণ্য ও নিষিদ্ধ মিডিয়ার রমরমা ব্যবসা চলে। ডেটা লিক বা তথ্য ফাঁসের কথাও শোনা যায়—পাসওয়ার্ড, হ্যাক করা অ্যাকাউন্ট, ক্রেডিট কার্ডের তথ্য ইত্যাদি এখানে বিক্রি হয়। এমন সাইট অবশ্যই আছে, কিন্তু এগুলো ডার্ক ওয়েবের একটি অংশ মাত্র, পুরোটা নয়।
অনেক ব্যবহার অবৈধ হলেও, যাদের অনলাইনে নাম-পরিচয় গোপন রাখা জরুরি, তারা বৈধভাবেই এই নেটওয়ার্ক ব্যবহার করেন। ডার্ক ওয়েবের একটি “ভালো” দিক হলো হুইসেলব্লোয়ার বা তথ্য ফাঁসকারীরা। যারা সমাজের অনিয়ম প্রকাশ করতে চান কিন্তু সরকার বা প্রতিষ্ঠানের রোষানল থেকে বাঁচতে নিজেদের পরিচয় গোপন রাখতে চান, তারা এই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করেন।
এ ছাড়া যেসব দেশে কঠোর ইন্টারনেট সেন্সরশিপ আইন রয়েছে, সেখানকার নাগরিকদের জন্য বৈধ সংবাদ ও তথ্যের সাইটও এখানে আছে (যেমন বিবিসির অনিয়ন সাইট)। ২০২০ সালের একটি গবেষণায় অনুমান করা হয়, ডার্ক ওয়েবের প্রায় ৫৭ শতাংশ কনটেন্ট অবৈধ। এটি সত্য হলে সংখ্যাটা অনেক বড়, কিন্তু তার মানে বাকি ৪৩ শতাংশ সাইট কোনো আইন ভাঙছে না।
সারকথা হলো, ডিপ ওয়েব কোনো ভয়ের জায়গা নয়, এটি আমাদের ইন্টারনেটেরই অপরিহার্য অংশ। আর ডার্ক ওয়েব বিপজ্জনক হতে পারে, তবে সব সময় নয়।
ব্লুটুথ চালু রাখলে কী তথ্য ফাঁস হয়
ব্লুটুথ স্ক্যানার Bluehood তৈরির গল্প। সাধারণ ডিভাইসেও কীভাবে আমাদের দৈনন্দিন জীবনের গোপন তথ্য ফাঁস হয়ে যায়, তা জানুন।
ডার্ক ওয়েব কীভাবে ব্রাউজ করবেন?
ডার্ক ওয়েব কীভাবে ব্রাউজ করবেন? জানুন টর ব্রাউজার ব্যবহারের নিয়ম, নিরাপত্তা টিপস এবং এখানে কী কী পাবেন।
চ্যাটবটের প্রেমে পড়ে নিঃস্ব হলেন আইটি বিশেষজ্ঞ
চ্যাটবটের সাথে সম্পর্ক, ব্যবসায়িক প্রতারণা এবং মানসিক ভারসাম্য হারানোর সত্য গল্প