২০২৫ সালের সেরা ২০ অ্যানিমে সিরিজ
২০২৫ সালে পশ্চিমা দর্শকদের মন কেড়েছে যে অ্যানিমে সিরিজগুলো। ডেমন স্লেয়ার থেকে দান দা দান—পড়ুন বছরের সেরা ২০ অ্যানিমের তালিকা।
জেমস ক্যামেরনের অ্যাভাটার সিরিজ দৃশ্যমান বা ভিজ্যুয়াল দিক থেকে যেমন অসাধারণ, তেমনি গল্পের দিক থেকেও দর্শকদের মনোযোগ ধরে রাখতে সক্ষম। তবে বিরতি ছাড়া তিন ঘণ্টার বেশি দৈর্ঘ্যের একটি সিনেমা দেখা বেশ কষ্টসাধ্য ব্যাপার—বিশেষ করে যখন পপকর্ন আর কোল্ড ড্রিংকস বা সোডা খেয়ে দর্শকরা সিনেমা দেখতে বসেন।
সম্প্রতি আবারও সিনেমার দৈর্ঘ্য বাড়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে! আসলে দীর্ঘ সময় ধরে সিনেমা দেখতে কোনো সমস্যা নেই, যতক্ষণ গল্প সেই সময়জুড়ে টানটান উত্তেজনা ধরে রাখে। কিন্তু দীর্ঘ সিনেমার ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট শিষ্টাচার মেনে চলা জরুরি। একজন পরিচালক যখন দর্শকদের কাছে এতটা সময় দাবি করেন, তখন সম্পাদনা আর সিনেমার গতি নির্ধারণে দর্শকদের প্রতি সম্মান দেখানো উচিত। আর এখানেই অনেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ভুলে যান—তা হলো বিরতি।
বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে, অর্থাৎ ১৯০০-এর দশকে মূলত কারিগরি প্রয়োজনে বিরতির প্রচলন ছিল—এক রিল শেষ হলে অন্য রিল লাগাতে হতো। কিন্তু ১৯৫০-এর দশকে দীর্ঘ সিনেমার ক্ষেত্রে এটি দর্শকদের প্রাকৃতিক কাজের বিরতি আর নতুন খাবার কেনার সুযোগ করে দিত। “লেটস অল গো টু দ্য লবি” নামের যে সংক্ষিপ্ত বিজ্ঞাপনটি আপনারা হয়তো দেখেছেন, সেটি ঠিক এই কারণেই তৈরি হয়েছিল—বিরতিতে দর্শকদের আরও খাবার কিনতে উৎসাহিত করার জন্য।
তবে শতাব্দীর শেষার্ধে উত্তর আমেরিকার প্রেক্ষাগৃহে বিরতির প্রথা প্রায় বিলুপ্ত হয়ে যায়। এর মূল কারণ ছিল প্রতিদিন বেশি সংখ্যক শো চালানো, যাতে আরও বেশি টিকিট বিক্রি করা যায়। ১৯৮২ সালে মুক্তি পাওয়া ‘গান্ধী’ ছিল দীর্ঘদিন পর প্রথম বড় বাজেটের ছবি, যেখানে বিরতি রাখা হয়েছিল। কারণ, এর দৈর্ঘ্য ছিল তিন ঘণ্টার বেশি।
বিরতি না থাকায় সিনেমার দৈর্ঘ্য সাধারণত একটি সীমার মধ্যেই থাকে। দীর্ঘ ছবিগুলো সাধারণত ১৫০ মিনিটের মধ্যে রাখা হয়, যাতে দর্শকদের খুব বেশি কষ্ট না হয়। আর বেশিরভাগ বাণিজ্যিক ছবি দুই ঘণ্টার কাছাকাছি রাখা হয়, যাতে সারাদিনে যত বেশি সম্ভব শোয়ের আয়োজন করা যায়।
দুঃখজনকভাবে, কানাডিয়ান পরিচালক জেমস ক্যামেরন—যিনি একইসাথে একজন সাবমেরিন উৎসাহী—এই “স্বনিয়ন্ত্রিত দৈর্ঘ্য” বা দৈর্ঘ্যের লাগাম টানার বিষয়টি মানেন না। তিনি যেন দর্শকদের দীর্ঘক্ষণ আটকে রাখার মিশনে নেমেছেন।
২০২২ সালে ক্যামেরন মুক্তি দেন ‘অ্যাভাটার: দ্য ওয়ে অফ ওয়াটার’—তার সায়েন্স ফিকশন মহাকাব্যের দ্বিতীয় ছবি। এর দৈর্ঘ্য ছিল ১৯২ মিনিট, যা ১৯৮২ সালের ‘গান্ধী’-র চেয়ে এক মিনিট বেশি। সাধারণত বড় আকারের পানীয় আর পপকর্ন নিয়ে সিনেমা শেষ পর্যন্ত বসে থাকতে আমার কোনো অসুবিধা হয় না, কিন্তু অ্যাভাটার-২ দেখতে গিয়ে আমাকে যে ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে, তা আগে কখনো হয়নি।
আইম্যাক্স হলে ক্রেডিট বা নাম দেখানো শুরুর সঙ্গে সঙ্গে আলো জ্বলে উঠলে, আমি ফোনে চেক করলাম পোস্ট-ক্রেডিট দৃশ্য আছে কি না। তারপর সোজা টয়লেটের দিকে ছুটলাম। এটা আমার জন্য স্বাভাবিক নয়; সাধারণত আমি ক্রেডিট দেখতে বসে থাকি—ছবির আবেগঘন মুহূর্তগুলো অনুভব করতে এবং যারা ছবিটি বানিয়েছেন তাদের প্রতি সম্মান জানাতে।
কিন্তু শরীরবৃত্তীয় বাস্তবতার ব্যাপারে আমাদের সৎ হতেই হবে। সিনেপ্লেক্সের বড় সাইজের কোল্ড ড্রিংকস প্রায় ৭৫০ মিলিলিটার হয়ে থাকে। আর পপকর্ন যে আকারেরই হোক না কেন, তা ফাইবারে সমৃদ্ধ এবং অন্ত্রকে বেশ সক্রিয় করে তোলে।
এই কারণেই “স্বনিয়ন্ত্রিত দৈর্ঘ্য”-এর কথা বলা হয়—পরিচালকরা সাধারণত চান না তাদের ছবি এত দীর্ঘ হোক যে দর্শকরা হলের আসনে বসেই প্রাকৃতিক চাপে অস্থির হয়ে পড়েন। কিন্তু জেমস ক্যামেরন তার তৃতীয় অ্যাভাটার ছবি ‘ফায়ার অ্যান্ড অ্যাশ’ নিয়ে গেছেন নতুন উচ্চতায়—এর দৈর্ঘ্য ১৯৫ মিনিট, যা আগের ছবির চেয়েও তিন মিনিট বেশি।
২০২২ সালে যখন তাকে জিজ্ঞেস করা হয় দর্শকরা টয়লেট বিরতি কখন নেবেন, ক্যামেরন বিষয়টি উড়িয়ে দিয়ে বলেছিলেন, “যে সময় ইচ্ছা, তখনই। যে দৃশ্যটি মিস করবেন, সেটি আবার দেখতে এলে দেখে নেবেন।” এমন একজন পরিচালকের কথা শুনে আমি সত্যিই বাকরুদ্ধ, যিনি বিপুল অর্থ খরচ করে এমন ছবি বানাচ্ছেন এবং আশা করছেন দর্শকরা গল্পের গুরুত্বপূর্ণ কোনো দৃশ্য মিস করবেন!
যে বিষয়টি আমাকে সত্যিই বিরক্ত করে, তা হলো ক্যামেরন এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমী। গত দশ বছরে অন্যান্য ছবিও মহাকাব্যিক দৈর্ঘ্যে পৌঁছেছে, কিন্তু তারা বিরতিকে উপস্থাপনার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে গ্রহণ করেছে। ২০১৫ সালে কোয়েন্টিন টারান্টিনো ‘দ্য হেটফুল এইট’ ৭০ মিমি ফরম্যাটে মুক্তি দেন—১৭২ মিনিটের সেই ছবিতে বারো মিনিটের বিরতি ছিল।
কিশোর বয়সে বাবা আর বোনের সাথে সেই ছবি দেখতে গিয়ে আমরা সেই বিরতির জন্য কৃতজ্ঞ ছিলাম! শুধু টয়লেট নয়, নতুন খাবার কেনারও যথেষ্ট সময় পেয়েছিলাম আমরা—যা সিনেমা হলের জন্যও দারুণ ব্যাপার, কারণ তারা টিকিটের চেয়ে খাবার বিক্রিতে অনেক বেশি মুনাফা করে।
গত বছর অস্কারজয়ী মহাকাব্যিক ড্রামা ‘দ্য ব্রুটালিস্ট’-এর দৈর্ঘ্য ছিল ২১৫ মিনিট, তবু এই দৈর্ঘ্য অ্যাভাটার ২ বা ৩-এর চেয়ে মেনে নেওয়া অনেক সহজ। কারণ এখানে পনেরো মিনিটের বিরতি রয়েছে। এই বিরতিগুলো শুধু দর্শকদের জন্যই উপকারী নয়, বাণিজ্যিকভাবেও লাভজনক। পাশাপাশি এটি নাটকীয় অনুষঙ্গ হিসেবেও কাজ করে—ছবির প্রথম ও দ্বিতীয়ার্ধের মাঝে উত্তেজনা তৈরি করে।
সবচেয়ে বড় যে বিষয়টি ক্যামেরনকে ভাবতে হবে—তা হলো, হয়তো তার হাতে কোনো বিকল্প নেই। অনেক আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীতেই বিরতি থাকবেই, কারণ সেটি সেই দেশের সংস্কৃতি। যদি পরিচালক বিরতি না দেন, সিনেমা হল কর্তৃপক্ষ নিজেরাই যত্রতত্র বা এলোমেলোভাবে কোনো দৃশ্যের মাঝে বিরতি ঢুকিয়ে দেবে।
চীনে বিষয়টি সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। সেখানে বিরতির সময় খাবার বিক্রি দ্বিগুণ হয়ে যায় বলে হল মালিকরা বিরতি তুলে দিতে চান না। ব্যক্তিগতভাবে, যদি বিরতি সিনেমার অভিজ্ঞতা নষ্ট করে, তবে তা সমস্যা। কিন্তু পরিচালকদের মাথায় রাখা উচিত—একশ কোটিরও বেশি মানুষ এমন জায়গায় বাস করে যেখানে বিরতি দর্শকদের কাছে একটি প্রত্যাশিত বিষয়।
তাই জেমস ক্যামেরন এবং তার সহকর্মীদের উদ্দেশ্যে একটাই কথা—দীর্ঘ ছবিতে বিরতি দরকার। আর যদি বিরতি দিতে প্রস্তুত না থাকেন?
তাহলে দীর্ঘ ছবি বানাবেন না!