skip to content
গুলবাহার
রোমান্টিক দক্ষতা বাড়ানোর উপায়

রোমান্টিক দক্ষতা বাড়ানোর উপায়

• ৪ মিনিট

মানুষ নানাভাবে প্রেমের সম্পর্কের জটিলতা সামলে থাকেন। কেউ সঙ্গীকে পরীক্ষা করতে চান, কেউ স্মৃতিচারণ করেন, আবার কেউ চেষ্টা করেন প্রেমের ভাষা বুঝতে—যাকে বলা হয় ‘লাভ ল্যাংগুয়েজ’। কিন্তু এর বাইরেও কিছু নির্দিষ্ট দক্ষতা রয়েছে, যেগুলোর সমন্বয়ে তৈরি হয় ‘রোমান্টিক কম্পিটেন্স’ বা রোমান্টিক দক্ষতা। এই দক্ষতাগুলোর সঠিকভাবে বিকাশ ঘটলে, তা সুস্থ সম্পর্ক গড়ার এক কার্যকর হাতিয়ারে পরিণত হয়।

২০০৯ সালে স্টোনি ব্রুক বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজির অধ্যাপক জোয়ান ডেভিলা, পিএইচডি এবং তাঁর গবেষক দল এই পরিভাষাটি তৈরি করেন। এরপর থেকেই এই ধারণার জনপ্রিয়তা বাড়ছে। চলুন জেনে নেওয়া যাক রোমান্টিক দক্ষতার মূল বিষয়গুলো, কীভাবে এর বিকাশ ঘটানো যায় এবং কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ।

রোমান্টিক দক্ষতা কী?

সহজ ভাষায়, রোমান্টিক দক্ষতা বলতে বোঝায় অন্তরঙ্গ ভালোবাসার সম্পর্কে সুস্থ ও নিবিড়ভাবে যুক্ত থাকার ক্ষমতা। এমনটাই বলেছেন সম্পর্ক বিষয়ক ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট এবং The Joy of Imperfect Love বইয়ের লেখক কার্লা মেরি ম্যানলি, পিএইচডি।

তাঁর মতে, “ভিত্তিগত দিক থেকে রোমান্টিক দক্ষতার উপাদানগুলোর মধ্যে রয়েছে আত্ম-বিশ্লেষণের ক্ষমতা, পারস্পরিক নির্ভরশীলতা এবং আবেগ নিয়ন্ত্রণ। তবে আমার ক্লিনিক্যাল অভিজ্ঞতায় দেখেছি, শক্তিশালী রোমান্টিক দক্ষতার জন্য আবেগিক বুদ্ধিমত্তা, সংযোগমূলক যোগাযোগ, সুস্থ সংঘাত ব্যবস্থাপনা এবং সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার দক্ষতাও প্রয়োজন।”

ডেভিলা তাঁর ২০১৫ সালের টেডএক্স (TEDx) বক্তৃতায় ব্যাখ্যা করেন, “সুস্থ সম্পর্ক কেমন হয়, তা হয়তো আমরা জানি, কিন্তু বেশিরভাগ মানুষেরই ধারণা নেই কীভাবে তা অর্জন করতে হয়—আর কেউই আমাদের শেখায় না কীভাবে এটি গড়তে হয়।” ঠিক এখানেই রোমান্টিক দক্ষতার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়।

তবে অন্যান্য আন্তঃব্যক্তিক দক্ষতার মতোই, রোমান্টিক দক্ষতা অর্জনেও সময় ও প্রচেষ্টার প্রয়োজন। ম্যানলি বলেন, “এর জন্য প্রয়োজন নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টা ও সচেতন প্রতিশ্রুতি।“

রোমান্টিক দক্ষতা বাড়ানোর উপায়

মানুষ সম্পর্কের প্রতি কী দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করে, তার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করে। রোমান্টিক দক্ষতার ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। বাস্তবে বেশিরভাগ সম্পর্কই এমন হয় না যেখানে দুজনের বোঝাপড়া সবসময় এক থাকে—যেমন একে অপরের আবেগিক চাহিদা পূরণ করার বিষয়টি। রোমান্টিক দক্ষতা বাড়ানোর কয়েকটি উপায় নিচে দেওয়া হলো:

নিজেকে জানুন

রোমান্টিক দক্ষতার অন্যতম মূল উপাদান হলো আত্ম-বিশ্লেষণের ক্ষমতা। যদি এ নিয়ে আগে কোনো সমস্যা থেকে থাকে, তবে এখনই তা নিয়ে কাজ করার উপযুক্ত সময়। ম্যানলি বলেন, “যে সঙ্গীরা আত্ম-বিশ্লেষণের ক্ষমতা গড়ে তোলেন, তাঁরা তুলনামূলক কম প্রতিক্রিয়াশীল হন এবং নিজেদের শক্তি ও দুর্বলতা সম্পর্কে বেশি সচেতন থাকেন।“

যত্নে রাখুন নিজেকে এবং সম্পর্ককে

পারস্পরিক নির্ভরশীলতা—যাকে ডেভিলা ‘মিউচুয়ালিটি’ বলে অভিহিত করেছেন—এর মানে হলো সঙ্গীরা নিজেদের ব্যক্তিগত চাহিদা এবং সম্পর্ককে এগিয়ে নেওয়ার চাহিদা, উভয়ই বোঝেন এবং তা পূরণের চেষ্টা করেন। ম্যানলি বলেন, “প্রকৃত পারস্পরিক নির্ভরশীলতা একটি দলগত মনোভাব তৈরি করে, যা প্রতিটি সঙ্গীকে—এবং সামগ্রিকভাবে সম্পর্ককে—সমৃদ্ধ হতে ও বিকশিত হওয়ার সুযোগ দেয়।“

আবেগ সুস্থভাবে প্রকাশ করুন

‘আবেগ নিয়ন্ত্রণ’ কথাটি শুনে যা মনে হয়, বাস্তবেও তা-ই—আর ম্যানলির মতে, এটি অন্তরঙ্গ সম্পর্কে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। “যখন এক বা উভয় সঙ্গীর আবেগ নিয়ন্ত্রণহীন হওয়ার প্রবণতা থাকে, তখন সম্পর্কটি নিজেই অনিরাপদ হয়ে পড়ে।“

যোগাযোগের পথ খোলা রাখুন

সবশেষে, সম্পর্ক নিয়ে কোনো আলোচনাই পারস্পরিক যোগাযোগ ছাড়া সম্পূর্ণ হতে পারে না। এখানে ম্যানলি ‘কানেকটিভ কমিউনিকেশন’ বা সংযোগমূলক যোগাযোগের কথা বলেছেন। এর অর্থ হলো, “মৌখিক ও অমৌখিক আচরণের সচেতন ব্যবহারের মাধ্যমে অন্য ব্যক্তির সঙ্গে একাত্মতা অনুভব করা।”

পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে, সংযোগ-কেন্দ্রিক যোগাযোগের জন্য সঙ্গীদের সচেতনভাবে একে অপরের সঙ্গে যুক্ত হতে হয়—কোনো বিভাজন নয়, বরং মতামতের মিলের জায়গাগুলো খুঁজে বের করে ঐক্য তৈরি করতে হয়। এর জন্য প্রয়োজন একে অপরের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং বাধাহীন, নিন্দামুক্ত ও সমালোচনাবিহীন কথোপকথন।

ম্যানলি বলেন, “যখন সঙ্গীরা খোলামেলা ও সুস্থভাবে যোগাযোগ করতে পারেন না, তখন সম্পর্কটি সময়ের সঙ্গে স্থবির হয়ে পড়ে বা ভেঙে যায়। তাই রোমান্টিক সম্পর্কে অন্তরঙ্গতা, বিশ্বাস ও নিরাপত্তা গড়ে তুলতে সংযোগমূলক যোগাযোগ অপরিহার্য।“

কেন রোমান্টিক দক্ষতা গুরুত্বপূর্ণ?

ম্যানলি মনে করেন, প্রেমে পড়া সহজ, কিন্তু প্রেম টিকিয়ে রাখতে পরিশ্রম করতে হয়। “যখন আমাদের রোমান্টিক দক্ষতার মাত্রা বেশি থাকে, তখন আমরা ভালোবাসার অনুভূতিকে ইতিবাচক মনোভাব ও কাজে রূপান্তরিত করতে পারি, যা একটি স্থায়ী প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে।”

তবে কেউই নিখুঁত নন। রোমান্টিক দক্ষতায় পারদর্শী ব্যক্তিরাও সবসময় সবকিছু ‘ঠিক’ করতে পারেন না—আমরা নিজেরাও পারি না। ম্যানলি বলেন, “তবে যাঁরা রোমান্টিক দক্ষতা অর্জন ও তা ধরে রাখার চেষ্টা করেন, তাঁরা দেখতে পান যে তাঁদের সম্পর্ক সময়ের সঙ্গে আরও সহজ ও আনন্দময় হয়ে উঠছে।”

সবশেষে, রোমান্টিক দক্ষতা বাড়ানোর সুবিধা যে শুধু প্রেমের সম্পর্কেই পাওয়া যায়, তা নয়। ম্যানলি বলেন, “আমি দেখেছি, সুস্থ ভালোবাসার সম্পর্কের জন্য যে দক্ষতাগুলো দরকার, তা জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই কাজে লাগে—সন্তান লালনপালন, বন্ধুত্ব, কর্মক্ষেত্র—সবখানেই।”

কেমন লাগলো এই লেখাটি?

প্রাসঙ্গিক লেখা

৩টি লেখা
  1. ভালোবাসা নয়!

    ভ্যালেন্টাইন্স ডে-র আগে ডেটিং অ্যাপে ব্যবহারকারী বাড়লেও অনেকের জন্য এই দিনটি একাকীত্বের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কেন? জানুন কীভাবে এই প্ল্যাটফর্মগুলো ব্যবহারকারীদের আটকে রাখে।

    প্রযুক্তিসম্পর্কডেটিং অ্যাপ
  2. OpenAI বন্ধ করে দিচ্ছে তাদের সবচেয়ে মোহনীয় চ্যাটবট

    ওপেনএআইয়ের জনপ্রিয় চ্যাটবট GPT-4o বন্ধের ঘোষণায় ব্যবহারকারীদের মধ্যে ক্ষোভ ও শোক। অনেকে বলছেন, "এভাবে চলতে পারব না।"

    প্রযুক্তিকৃত্রিম বুদ্ধিমত্তামানসিক স্বাস্থ্য
  3. সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীর বয়স ন্যূনতম ১৬ কেন হওয়া উচিত

    অস্ট্রেলিয়ার ১৬ বছর বয়সসীমা আইন বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তুলেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বয়ঃসন্ধির সময় সোশ্যাল মিডিয়া মস্তিষ্কের জন্য ক্ষতিকর।

    সোশ্যাল মিডিয়াশিশু নিরাপত্তাঅস্ট্রেলিয়া