OpenAI বন্ধ করে দিচ্ছে তাদের সবচেয়ে মোহনীয় চ্যাটবট
ওপেনএআইয়ের জনপ্রিয় চ্যাটবট GPT-4o বন্ধের ঘোষণায় ব্যবহারকারীদের মধ্যে ক্ষোভ ও শোক। অনেকে বলছেন, "এভাবে চলতে পারব না।"
ভ্যালেন্টাইন্স ডে ঘনিয়ে এলেই ডেটিং অ্যাপগুলোতে নতুন ব্যবহারকারী ও কার্যক্রমের জোয়ার আসে। তৈরি হয় অসংখ্য নতুন প্রোফাইল, পাঠানো হয় হাজারো বার্তা, রেকর্ড হয় লাখ লাখ সোয়াইপ।
এই প্ল্যাটফর্মগুলো নিজেদের একাকীত্ব দূর করার আধুনিক প্রযুক্তিগত সমাধান হিসেবে তুলে ধরে—যেন আঙুলের এক স্পর্শেই সব সম্ভব। কিন্তু বাস্তবে অনেকের কাছেই রোমান্টিক সম্পর্ক উদযাপনের এই দিনটি আরও গভীর একাকীত্ব নিয়ে আসে।
এটি কোনো ব্যক্তিগত ব্যর্থতা বা আধুনিক প্রেমের বাস্তবতা নয়; বরং এটি ডেটিং অ্যাপগুলোর নকশা এবং এগুলোর পেছনের অর্থনৈতিক যুক্তির ফলাফল।
এই ডিজিটাল টুলগুলো কেবল সংযোগ ঘটিয়ে দেওয়ার মাধ্যম বা ইন্টারফেস নয়। অনলাইন ডেটিংয়ের সহজলভ্যতা ও বিস্তৃতি সামাজিক বন্ধনকে পণ্যে পরিণত করেছে, অর্থবহ মিথষ্ক্রিয়া বা যোগাযোগকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে এবং এক ধরনের ‘ব্যবহার করে ফেলে দাও’ (use-and-dispose) সংস্কৃতির জন্ম দিয়েছে—যা একঘেয়েমি ও সিদ্ধান্তহীনতা বাড়িয়ে তোলে।
অনলাইন ডেটিং অ্যাপগুলো এখন বিশাল ব্যবসার উৎস।
টিন্ডার, হিঞ্জ, ম্যাচ ডট কম, ওককিউপিড, প্লেন্টি অফ ফিশ ও আওয়ারটাইমসহ অনেক জনপ্রিয় ডেটিং অ্যাপের মূল কোম্পানি ‘ম্যাচ গ্রুপ’। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, এই মাসের চতুর্থ প্রান্তিকে তাদের আয় ৮৭৮ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।
তবে তাদের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, অ্যাপগুলোতে অর্থ খরচ করা ব্যবহারকারীর (Paying User) সংখ্যা কমছে। গত বছরের তুলনায় পেইং ইউজার কমেছে পাঁচ শতাংশ।
এই পতন এমন একটি প্রবণতার ইঙ্গিত, যা কোম্পানিটিকে নতুন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (Artificial Intelligence) টুল তৈরিতে উদ্বুদ্ধ করেছে। তাদের লক্ষ্য—ব্যবহারকারী বৃদ্ধি এবং কমবয়সী গ্রাহকদের আকৃষ্ট করা। এর অংশ হিসেবে বিনামূল্যের ব্যবহারকারীদের অর্থ প্রদানকারী গ্রাহকে রূপান্তরিত করার চেষ্টা চলছে।
ডেটিং অ্যাপগুলো ভালোবাসা বিক্রি করে না। তারা বিক্রি করে সেই অনুভূতি যে, ভালোবাসা মাত্র একটা ‘প্রিমিয়াম আপগ্রেড’ দূরে। প্ল্যাটফর্মগুলো এমনভাবে তৈরি করা হয়নি যেন ব্যবহারকারীরা প্রেম পেলেই অ্যাপটি মুছে ফেলে। বরং এগুলো তৈরি হয়েছে এমনভাবে, যেন ব্যবহারকারীরা ক্রমাগত সোয়াইপ করতেই থাকে।
দীর্ঘস্থায়ী অনিশ্চয়তা ব্যবসার জন্য লাভজনক। “আরও ভালো ম্যাচ মাত্র একটা সোয়াইপ দূরে”—এই অনুভূতি তৈরি করে ব্যবহারকারীদের আটকে রাখা হয়। পছন্দ করার প্রক্রিয়াকে গেম বা খেলায় পরিণত করা (Gamification), স্লট মেশিনের মতো অনিয়মিত পুরস্কার প্রাপ্তির উত্তেজনা এবং ঘন ঘন পুশ নোটিফিকেশনের কৌশল—এসব কিছুই ‘ফিয়ার অফ মিসিং আউট’ (FOMO) বা কিছু হারিয়ে ফেলার ভয় তৈরি করে। এটি ব্যবহারকারীকে নিয়ন্ত্রণহীন ও আসক্তিমূলক ব্যবহারের দিকে ঠেলে দেয়।
অ্যাপে ব্যবহারকারীর মিথষ্ক্রিয়া ও সময় বাড়ানো এবং তাদের তথ্য সংগ্রহ করা—এসবই পেইড ফিচার, মাসিক সাবস্ক্রিপশন ও বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে আয়ের সুযোগ তৈরি করে।
ডেটিং অ্যাপগুলো এই ধারণা বিক্রি করে যে, এই প্ল্যাটফর্মগুলো আমাদের সামাজিক লক্ষ্যগুলো আরও দক্ষ ও বুদ্ধিমত্তার সাথে অর্জন করতে সাহায্য করে এবং বাস্তব জীবনের চাহিদাকে প্রযুক্তিগত সমাধান দিয়ে পূরণ করে।
এই ব্যবস্থায় মানুষকে প্রতিনিয়ত নিজেকে উন্নত ও ‘অপ্টিমাইজ’ করতে হয়। অতিরিক্ত ফিচারের জন্য অর্থ খরচ করা তখন নিজের ওপর ‘বিনিয়োগ’ বলে মনে হয়। আর এখানে একজন ব্যক্তির মূল্য নির্ধারিত হয় তার আকর্ষণীয়তা, কর্মক্ষমতা ও ফলাফল দিয়ে।
আকর্ষণীয় প্রোফাইল তৈরি, চটকদার বার্তা লেখা এবং নিজের ছবি ও ভিডিও কুরেট করা—এর মাধ্যমে আমরা নিজেদের সময় ও আত্মমূল্যকে পণ্যে পরিণত করি। এতে এই ধারণা শক্তিশালী হয় যে, অ্যাপে সাফল্যের দায় একান্তই নিজের; যদিও খেলার মাঠটি কৌশলগতভাবে এমনভাবে সাজানো হয় যেন আমরা দীর্ঘ সময় ধরে এখানেই আটকে থাকি।
তাহলে কি আমাদের ব্যর্থ হওয়ার জন্যই প্রস্তুত করা হচ্ছে? ব্যর্থতা ও সাফল্যের মধ্যে পার্থক্য করতে গিয়ে একটি মূল বিষয় প্রায়ই উপেক্ষা করা হয়—ডেটিং অ্যাপগুলো রাজনৈতিক সত্তা হিসেবে কাজ করে, যা ডেটিং-সম্পদের (সম্ভাব্য সঙ্গী) প্রবেশাধিকার ও বণ্টন নিয়ন্ত্রণ করে।
অনলাইন ডেটিং অ্যাপগুলো আমাদের প্রয়োজন, ইচ্ছা ও অনিশ্চয়তাকে পুঁজি করে আশা বিক্রি করে। যখন অ্যাপগুলো বারবার ইঙ্গিত দেয় যে আরও ভালো কেউ মাত্র একটা সোয়াইপ দূরে অপেক্ষা করছে, তখন তা আমাদের প্রত্যাশা বদলে দেয়, এমনকি বাড়িয়েও তোলে।
সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে মানুষ সাধারণত “স্যাটিসফাইসার” (Satisficer) নামের একটি কৌশল ব্যবহার করে। শব্দটি “স্যাটিসফাই” (সন্তুষ্ট) ও “সাফিস” (যথেষ্ট)—এই দুইয়ের সমন্বয়। এর মানে হলো, সময়, তথ্য ও বোধশক্তির সীমাবদ্ধতার কারণে মানুষ সাধারণত অসীম নিখুঁত কিছুর খোঁজ না করে ‘যথেষ্ট ভালো’ বিকল্পটি বেছে নেয়। সম্পর্কের ক্ষেত্রেও একসময় পারস্পরিক বোঝাপড়া বা সামঞ্জস্যই যথেষ্ট ছিল।
কিন্তু অ্যাপে অপশনের শেষ নেই—অসীম সম্ভাব্য সঙ্গী, অসীম সম্ভাবনা। সমস্যা হলো, অপশনগুলো অসীম মনে হওয়ার ফলে আমরা আর অল্পতে সন্তুষ্ট হতে শিখছি না। বরং আমরা ক্রমাগত সোয়াইপ করতেই উৎসাহিত হচ্ছি।
প্ল্যাটফর্মগুলো সম্ভাব্য সঙ্গীর বিশ্ববাজারে সম্পদের প্রবেশাধিকার ও বণ্টনের ‘কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রক’ হিসেবে কাজ করে। এর ফলে মানবীয় সম্পর্ক ও আবেগকে বাজারভিত্তিক লেনদেন হিসেবে দেখার প্রবণতা তৈরি হয়।
ব্যবহারকারীরা তখন একজন ভোক্তার মতো আচরণ করতে শুরু করেন, যেখানে সঙ্গী বাছাই করাটা কেনাকাটার মতো হয়ে দাঁড়ায়—অন্যদের সঙ্গে ক্রমাগত তুলনা করা এবং ‘সর্বোচ্চ মানের’ সঙ্গীর খোঁজে কাউকে কাউকে সহজেই বাতিল করে দেওয়া।
সংযোগ বা পারস্পরিক যত্নের পরিবর্তে, মিথষ্ক্রিয়া হয়ে ওঠে নিজেদের পছন্দ অপ্টিমাইজ করার একটি যান্ত্রিক প্রক্রিয়া। ‘প্রাচুর্যের বিভ্রম’ (Illusion of abundance) তৈরি করে মানুষকে পণ্য বা পরিবর্তনযোগ্য মনে করানো হয়। এটি মানুষকে সৌন্দর্য বা সামাজিক অবস্থানের মতো বাহ্যিক মানদণ্ডে প্রতিযোগিতায় নামতে বাধ্য করে। এই প্ল্যাটফর্মে সাফল্য ও আকর্ষণীয়তা বিদ্যমান শ্রেণী, বর্ণ ও ধর্মের ভেদাভেদকে আরও শক্তিশালী করে।
এই টুলগুলো প্রত্যাখ্যানের সংস্কৃতিকেও উসকে দেয়। অপশনের সংখ্যা বাড়লে ব্যবহারকারীদের সম্ভাব্য সঙ্গীকে প্রত্যাখ্যান করার প্রবণতা বাড়ে, ফলে তারা রোমান্টিক সুযোগের প্রতি আরও রক্ষণশীল বা বিমুখ হয়ে পড়ে।
রোমান্টিক সংযোগকে পণ্যে রূপান্তর করা সামাজিক বন্ধনকে দুর্বল করে এবং সামষ্টিক স্বার্থের চেয়ে ব্যক্তিগত সাফল্যকে অগ্রাধিকার দেয়—যা শেষ পর্যন্ত বিচ্ছিন্নতা ও একাকীত্ব বাড়ায়।
ডেটিং অ্যাপগুলো এমন একটি প্ল্যাটফর্ম, যা কাঠামোগত অসমতা বা একাকীত্বের মূল কারণগুলোর সমাধান না করে বরং ব্যক্তিগত পছন্দ ও কৌশলকেই প্রাধান্য দেয়।
একটি প্রতিযোগিতামূলক ডিজিটাল পরিবেশ গড়ে তুলে এই অ্যাপগুলো মানুষের ‘বদলযোগ্য’ হওয়ার ধারণাকে উৎসাহিত করে। মানুষ কীভাবে একে অপরকে মূল্যায়ন ও বাছাই করবে, তা বদলে দেয় এই প্রযুক্তি—যা প্রায়শই ক্লান্তি ও হতাশার কারণ হয়।
ব্যবহারকারীদের উৎসাহিত করা হয় নিজেকে ‘অপ্টিমাইজ’ করা পণ্য হিসেবে এবং অন্যদের কেবল ‘মূল্যায়নের অপশন’ হিসেবে দেখতে। একাকীত্ব দূর করতে ডেটিং অ্যাপের ওপর এই নির্ভরশীলতা শেষ পর্যন্ত আমাদের সামাজিক বন্ধনগুলোকেই দুর্বল করে দিচ্ছে এবং একে অপরের সাথে মেশার ধরণ আমূল বদলে দিচ্ছে।
OpenAI বন্ধ করে দিচ্ছে তাদের সবচেয়ে মোহনীয় চ্যাটবট
ওপেনএআইয়ের জনপ্রিয় চ্যাটবট GPT-4o বন্ধের ঘোষণায় ব্যবহারকারীদের মধ্যে ক্ষোভ ও শোক। অনেকে বলছেন, "এভাবে চলতে পারব না।"
সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীর বয়স ন্যূনতম ১৬ কেন হওয়া উচিত
অস্ট্রেলিয়ার ১৬ বছর বয়সসীমা আইন বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তুলেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বয়ঃসন্ধির সময় সোশ্যাল মিডিয়া মস্তিষ্কের জন্য ক্ষতিকর।
রোমান্টিক দক্ষতা বাড়ানোর উপায়
সুস্থ প্রেমের সম্পর্ক গড়তে রোমান্টিক কম্পিটেন্স বা রোমান্টিক দক্ষতা কী, কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ এবং কীভাবে এটি বিকাশ করা যায়। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ।