OpenAI বন্ধ করে দিচ্ছে তাদের সবচেয়ে মোহনীয় চ্যাটবট
ওপেনএআইয়ের জনপ্রিয় চ্যাটবট GPT-4o বন্ধের ঘোষণায় ব্যবহারকারীদের মধ্যে ক্ষোভ ও শোক। অনেকে বলছেন, "এভাবে চলতে পারব না।"
• ৭ মিনিট
১৯৯৬ সালের জানুয়ারি মাসে ওয়াশিংটন ডিসি ও এর আশেপাশের এলাকায় প্রায় ২০ ইঞ্চি তুষারপাত ঘটিয়েছিল এক ভয়াবহ তুষারঝড় বা ব্লিজার্ড। সেই ঘটনার ৩০ বছর পূর্তি হতে চলেছে। আগামী ১৬ জানুয়ারি, ২০২৬—সেই বিভীষিকাময় স্মৃতির তিন দশক পূর্ণ হবে।
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পেছনের ঘটনাগুলোর প্রতি মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি কীভাবে বদলে যায়, তা বলা মুশকিল। কিন্তু আমার স্মৃতির পাতায় এই দিনটি গভীরভাবে খোদাই করা আছে। ১৯৯৬ সালের ১৬ জানুয়ারি—প্রতিটা দিনই আমি তারিখটার কথা ভাবি। তখন আমার বয়স ছিল ২২—সুন্দরী, বুদ্ধিমতী, কিন্তু আটকে ছিলাম এক বিষাক্ত দাম্পত্য জীবনে। তখন আমাদের সম্পর্কের ‘বিরতি’ বা ‘ব্রেক’ চলছিল, যা ছিল নিয়মিত ঘটনা।
আমি তখন আমার সাবেক সৎবোনের বাড়িতে থাকছিলাম, যা আমার নিজের বাসা থেকে প্রায় ৩০ মাইল দূরে। তাঁর সদ্যোজাত ছেলের দেখাশোনা করছিলাম। তিনি প্রসব-পরবর্তী বিষণ্নতায় (পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশন) ভুগছিলেন, আর বাচ্চাদের প্রতি আমার ছিল অঢেল ভালোবাসা। খুব করে চাইছিলাম নিজেরও একটা সন্তান হোক। তাই পরিবারের সঙ্গে রাতদিন মিশে ছিলাম—ঘর পরিষ্কার, রান্নাবান্না, শিশুর যত্ন—সব রকমভাবে সাহায্য করছিলাম। নিজেকে কাজে লাগাতে চাইছিলাম, চাইছিলাম নিজেকে এই পরিবারেরই একজন মনে করতে।
সেদিন বিকেলে ছোট একটি বাথরুমের মেঝে থেকে জমে থাকা হেয়ারস্প্রের দাগ তুলতে ব্যস্ত ছিলাম। ব্যবহার করছিলাম সরাসরি ক্লোরিন ব্লিচ। ঘরটি বদ্ধ ছিল। কমপক্ষে ২০ মিনিট ধরে সেই ঝাঁজালো ধোঁয়া নিঃশ্বাসের সঙ্গে শরীরে নিয়েছি। এর কিছুক্ষণ পরেই মদ্যপান শুরু করি—তখন এটি ছিল আমার নিয়মিত অভ্যাস।
পরে মনে হলো মিডল স্কুলের প্রথম প্রেমিকের সঙ্গে দেখা করি। দুই বছর ধরে তাঁর সঙ্গে দেখা হয়নি। সরল বিশ্বাসে ভেবেছিলাম, নিছক আড্ডা দেব—বন্ধু হিসেবে। ফোনে আমাদের প্রায়ই কথা হতো, একই এলাকায় থাকলে দেখাও করতাম, কিন্তু সম্পর্কটা বন্ধুত্বের গণ্ডিতেই ছিল। সেই সন্ধ্যায় তিনি আমাকে নিতে এলেন—২৩ বছর বয়সে নিজের বাড়ি কিনেছিলেন, বেশ প্রভাবশালী ভাবভঙ্গি। বিয়ার খেলাম, আবারও নিজের সীমার বাইরে পান করে ফেললাম। আমি রাতের খাবার রান্না করলাম, কারণ এটাই আমার স্বভাব—মনেপ্রাণে আমি একজন পুরোদস্তুর গৃহিণী।
খাওয়ার পর স্পষ্ট বোঝা গেল, তাঁর মতলব অন্য কিছু। আমি তাতে সায় দিলাম না। যখন তাঁকে বললাম আমাকে সৎবোনের বাড়িতে নামিয়ে দিয়ে আসতে, তিনি আক্রমণাত্মক হয়ে উঠলেন। গায়ে হাত তোলেননি, কিন্তু তাঁর হুমকি-ধমকিতে আমি ভীষণ ভয় পেয়ে গেলাম। আমরা দুজনেই নেশাগ্রস্ত ছিলাম। আমি শারীরিকভাবেও অসুস্থ বোধ করছিলাম—মদ আর ক্লোরিনের ধোঁয়ায় আমার হিতাহিত জ্ঞান লোপ পেয়েছিল।
তুষারঝড়ের কারণে দুই লেনের অন্ধকার হাইওয়ের দুপাশে তখন বিশাল তুষারের স্তূপ। গাড়িতেই আমাদের ঝগড়া শুরু হলো। আমি বারবার গাড়ি থামিয়ে আমাকে নামিয়ে দিতে বললাম। তিনি রাজি হলেন না, বরং গাড়ির গতি বাড়িয়ে দিলেন। আমি হুঁশিয়ারি দিলাম—গাড়ি না থামালে আমি ঝাঁপ দেব। তিনি আরও জোরে গাড়ি চালাতে শুরু করলেন। স্পিডোমিটারের কাঁটা ৬০-এর ঘরে পৌঁছে গেল।
আমি দরজা খুলে চলন্ত গাড়ি থেকে লাফ দিলাম।
মনে আছে, আমার আঙুলের রুপোর আংটি রাস্তার পিচে ঘষা খাচ্ছিল—সেই দৃশ্যটা আজও চোখে ভাসে। বুঝতেই পারিনি আমার ডান পা পেছনের চাকায় লেগেছে, আর গাড়িটা এগিয়ে গেছে। রুট-৬ এর ঠিক মাঝখানে আমি পিঠের ওপর ছিটকে পড়লাম—চারপাশ ঘুটঘুটে অন্ধকার, কোনো স্ট্রিটলাইট নেই।
তাঁর গাড়ির পেছনের লাল আলো অন্ধকারে মিলিয়ে যেতে দেখলাম। ঠিক তখনই পেছন থেকে হেডলাইটের আলো চোখে পড়ল—একটি জিপ চেরোকি। মনে মনে শুধু প্রার্থনা করলাম, “দয়া করে আমাকে দেখো।” ঈশ্বরকে ধন্যবাদ, তাঁরা আমাকে দেখতে পেয়েছিলেন।
যিনি আমাকে বাঁচাতে এসেছিলেন, তাঁর মুখটা আমি দেখিনি। তিনি শুধু বললেন, “আমি তোমাকে তুলে নিচ্ছি।” যখন আমাকে তুললেন, তিনি আমাকে কিছু একটা ধরে রাখতে বললেন। নিচে তাকিয়ে দেখি—আমার ডান পা শরীর থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন, ডান হিপের পেছনে উল্টো হয়ে পড়ে আছে। পা সম্পূর্ণ ভেঙে চুরমার, চামড়া আর টেন্ডন দিয়ে কোনোমতে ঝুলে আছে।
তিনি আমার ভাঙা পা সাবধানে তুষারের স্তূপের ওপর রেখে সাহায্যের খোঁজে গেলেন।
সেটা ১৯৯৬ সাল—তখন হাতেগোনা কজনের কাছে মোবাইল ফোন থাকত। আমার কাছে ছিল না, পরিচিত কারও কাছেও না। কিন্তু অলৌকিকভাবে খুব দ্রুতই মেডিভ্যাক হেলিকপ্টার চলে এলো। মনে আছে সেই তীব্র ঠান্ডা, শোরগোল, চাপা আওয়াজ আর কাউকে বলতে শুনলাম—“সম্ভাব্য অ্যাম্পিউটি (পা কেটে ফেলতে হবে এমন রোগী) আনা হচ্ছে।” পুরো সময় আমার জ্ঞান ছিল। কোনো ব্যথা অনুভব করিনি। শুধু এক বিশাল শারীরিক ও মানসিক ঘোরের মধ্যে ছিলাম।
প্রিন্স জর্জ ট্রমা সেন্টারে কমপক্ষে নয়জন ডাক্তার-নার্স আমাকে ঘিরে ধরলেন। তাঁরা কাঁচি দিয়ে আমার জিন্স, সোয়েটার আর ডান পায়ের বুট কেটে ফেললেন। আমি আপত্তি জানালাম—কারণ ওই জিন্স আর বুটজোড়া আমার খুব প্রিয় ছিল! আমি মাতাল ছিলাম, তাই অসংলগ্ন আচরণ করছিলাম এবং আঘাতের গুরুত্ব বুঝতেই পারছিলাম না।
আমার টিবিয়া-ফিবুলা ভেঙে চুরমার হয়ে গিয়েছিল (কম্পাউন্ড ফ্র্যাকচার), গোড়ালি ভেঙে স্থানচ্যুত হয়ে গিয়েছিল। একজন ট্রমা নার্স আমার পিঠ আর বুকের জখম পরিষ্কার করছিলেন, অন্যরা চুপচাপ আমার পা সোজা করে জায়গামতো বসিয়ে দিলেন। জীবনে কখনো এত জোরে চিৎকার করিনি।
পেটে খাবার ও শরীরে অ্যালকোহল থাকায় সকাল পর্যন্ত অস্ত্রোপচার বিলম্বিত হলো। ঘণ্টার পর ঘণ্টা করিডোরে স্ট্রেচারে শুয়ে ছিলাম। রেজিস্ট্রেশন কর্মী সার্জারির সম্মতিপত্র (কনসেন্ট ফর্ম) নিয়ে এলেন। আমি সই করতে দেরি করছিলাম—বিলের ভয়ে। গত মাসেই চাকরি ছাড়ায় আমার স্বাস্থ্যবীমা বাতিল হয়ে গিয়েছিল।
আমি জিজ্ঞেস করলাম, “যদি সই না করি?” তিনি শান্তভাবে বললেন, “তাহলে সম্ভবত আর কখনো হাঁটতে পারবেন না।” আমি সই করলাম।
পরদিন ভোর ৬টা বা ৭টার দিকে এক অর্থোপেডিক সার্জন এলেন। ভরাট কণ্ঠস্বর, অত্যন্ত দয়ালু আর রসিক মানুষ। তিনি বললেন, আমার পা বাঁচানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন, রড-প্লেট বসাবেন এবং তিনি আশাবাদী যে আমি আবার হাঁটতে পারব।
তখনও পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝিনি। সত্যিই জানতাম না আমার পায়ের অবস্থা কতটা খারাপ ছিল।
অস্ত্রোপচার শেষে তিনি জানালেন, অপারেশন সফল হয়েছে, পা বাঁচানো সম্ভব হয়েছে—যেমনটা আমি চেয়েছিলাম। তিনি আমাকে ‘আগে ও পরের’ এক্স-রে দেখালেন। পরের ছবিতে দেখা গেল—বুড়ো আঙুলের মতো মোটা একটি ধাতব রড হাঁটু থেকে গোড়ালি পর্যন্ত টিবিয়া-ফিবুলার মধ্য দিয়ে বসানো হয়েছে। গোড়ালিতে ছয়টি স্ক্রু—প্রতি পাশে তিনটি—হাড় জোড়া লাগিয়ে রেখেছে, আর হাঁটুর কাছে দুটি স্ক্রু রডটিকে ধরে রেখেছে। স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল, সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন ভাঙা হাড়গুলো এখন নিজের জায়গায় আছে। এক নার্স বলেছিলেন, “সুপারম্যান ঘোড়া থেকে পড়ে আর কখনো হাঁটতে পারলেন না। আর আপনি ৬০ মাইল বেগে গাড়ি থেকে ঝাঁপ দিয়েছেন, তবুও আপনি আবার হাঁটবেন!”
কয়েকদিন হাসপাতালেই ছিলাম। একপর্যায়ে সেই গাড়িচালক (প্রাক্তন প্রেমিক) এসেছিলেন, জিজ্ঞেস করেছিলেন, “কেন ঝাঁপ দিলে?” সবাই ঘটনাটিকে আত্মহত্যার চেষ্টা হিসেবেই দেখল। কিন্তু ব্যাপারটা মোটেও তা ছিল না—সেটা ছিল পালানোর চেষ্টা, যেকোনো উপায়ে সেই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পাওয়া। তাতে যদি মরতে হতো, মরতাম।
তিনি চলে গেলেন। কিছুক্ষণ পর আমার স্বামী এলেন। ভাবছিলাম, তাঁদের দুজনের দেখা হলো না কীভাবে! স্বামী জিজ্ঞেস করলেন আমি কী করেছি, কেন করেছি। তিনি পুরো পরিস্থিতি জানতেন না, আমি কখনো বলিওনি। শুধু বললাম, ৬০ মাইল বেগে চলা গাড়ি থেকে ঝাঁপ দিয়েছি। গাড়িটা কে চালাচ্ছিল, তিনি জানতেন কি না আমার জানা নেই।
কয়েকদিন পর ছাড়া পেলাম। আশ্চর্যজনকভাবে, আমাকে মনোরোগ বিভাগে যেতে হয়নি, কোনো মানসিক মূল্যায়নেরও মুখোমুখি হতে হয়নি—অথচ ঘটনাটি এত বড় একটি ‘আত্মহত্যার চেষ্টা’ হিসেবে বিবেচিত হয়েছিল। ১৫ বছর বয়সে ওষুধের ওভারডোজ, ১৮-তে হাতের শিরা কাটা, আর এখন চলন্ত গাড়ি থেকে ঝাঁপ—২৫ বছর ধরে এই গল্পটাই সবার কাছে প্রচলিত রইল।
স্বামীর সঙ্গে অ্যাপার্টমেন্টে ফিরলাম—মা আর বোনের কাছে, যার বয়স তখন নয়। দুই বাড়িতেই থাকতাম, সুস্থ হচ্ছিলাম, নতুন করে হাঁটা শিখছিলাম। কোনো ফিজিওথেরাপির কথা মনে নেই। ২২ বছর বয়সে আমি বৃদ্ধাদের মতো ওয়াকার ব্যবহার করে হাঁটতাম। এক তথাকথিত বন্ধু সবসময় হাসাহাসি করতেন—২২ বছরের তরুণী ওয়াকার নিয়ে হাঁটছে! স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে আমার প্রায় ছয় মাস লেগেছিল।
হাঁটা সহজ ছিল না। গোড়ালির নমনীয়তা কমে গিয়েছিল, তাই ডান পায়ের পাতার ওপর ভর দিয়ে হাঁটতাম, গোড়ালি বেশিক্ষণ মাটিতে রাখতে পারতাম না। ভাগ্যের পরিহাস হলো, পরে যখন হিল জুতো পরতাম, তখন এই সমস্যাটাই সুবিধা দিত। দীর্ঘদিন ব্যথা ছিল, কিন্তু আমি নিজেকে সক্রিয় রেখেছি, প্রায় স্বাভাবিক জীবনযাপন করেছি।
সবসময় দেখা যেত একটি তীক্ষ্ণ হাড়ের টুকরো ত্বকের নিচে ঠেলে বেরিয়ে আছে—সেটা কখনো ছাঁটা বা মসৃণ করা হয়নি। এটি সবসময় বিরক্ত করত। শৈশব থেকেই আমি নিজের পা দেখতে ঘৃণা করতাম। ছোটবেলায় লম্বা আর শুকনো ছিলাম বলে সবাই ক্ষ্যাপাত—“মোরগের ঠ্যাং” বলে দুষত। বড় হয়েও শরীর নিয়ে কটূক্তি শুনতে হতো, আমি অ্যানোরেক্সিক (খাওয়ার বিকারগ্রস্ত) কি না জিজ্ঞেস করা হতো। অথচ আমি কেবল প্রাকৃতিকভাবেই লম্বা, শুকনো আর দুর্বল ছিলাম।
ভাগ্যের কী নির্মম পরিহাস, যে পা আমি ঘৃণা করতাম, সেই পাই শেষমেশ ক্ষত-বিক্ষত আর অকেজো হলো। সেই দিনের ঘটনার জেরেই ২০ বছর চার মাস পর শেষ পর্যন্ত আমার পা কেটে ফেলতে হয়। দিনটি ছিল ১৬ জানুয়ারি, ১৯৯৬—আজ থেকে ৩০ বছর আগে।
এ এক দীর্ঘ জীবনসংগ্রাম।
OpenAI বন্ধ করে দিচ্ছে তাদের সবচেয়ে মোহনীয় চ্যাটবট
ওপেনএআইয়ের জনপ্রিয় চ্যাটবট GPT-4o বন্ধের ঘোষণায় ব্যবহারকারীদের মধ্যে ক্ষোভ ও শোক। অনেকে বলছেন, "এভাবে চলতে পারব না।"
সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীর বয়স ন্যূনতম ১৬ কেন হওয়া উচিত
অস্ট্রেলিয়ার ১৬ বছর বয়সসীমা আইন বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তুলেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বয়ঃসন্ধির সময় সোশ্যাল মিডিয়া মস্তিষ্কের জন্য ক্ষতিকর।
রোমান্টিক দক্ষতা বাড়ানোর উপায়
সুস্থ প্রেমের সম্পর্ক গড়তে রোমান্টিক কম্পিটেন্স বা রোমান্টিক দক্ষতা কী, কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ এবং কীভাবে এটি বিকাশ করা যায়। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ।