skip to content
গুলবাহার

টিকটকারের স্বীকারোক্তি: "ঘৃণা ছড়ালে ভিউ বাড়ে"

• ৮ মিনিট

লন্ডনের বাসিন্দাদের বাড়িতে গোপনে ভিডিও ধারণ করে অভিবাসনবিরোধী ভুয়া প্রচারণায় লিপ্ত এক টিকটকারের কর্মকাণ্ড নিয়ে ‘লন্ডন সেন্ট্রিক’-এর অনুসন্ধানী প্রতিবেদনটি জনমনে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

শত শত মন্তব্যের ভিড়ে দুটি প্রশ্নই বারবার ঘুরেফিরে আসছিল—এই টিকটক অ্যাকাউন্টের নেপথ্যে কে আছেন এবং কী তাকে এসব ভিডিও বানাতে উদ্বুদ্ধ করেছে?

অবশেষে আজ সেই টিকটকার বলে দাবি করা এক ব্যক্তির অভূতপূর্ব স্বীকারোক্তি পাওয়া গেছে। অনলাইনে ঘৃণার যে বিশাল জগত, সেখানে তিনি হয়তো কেবল একজন। তবুও তার স্বীকারোক্তি থেকে অনলাইনে ভাইরাল হওয়ার এই প্রবণতার পেছনের মনস্তত্ত্ব ও কারণগুলো বুঝতে সুবিধা হয়।

লন্ডনকে এখন ভুয়া ভাইরাল ভিডিও তৈরির ক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে, যা শহরটি সম্পর্কে সবচেয়ে খারাপ স্টিরিওটাইপ বা বদ্ধমূল ধারণাগুলোকে কাজে লাগিয়ে সারা বিশ্বে বিপুল দর্শকপ্রিয়তা পাচ্ছে।

“কেউ লক্ষ্য করবে না ভেবেছিলাম”

অডিও রেকর্ডিংয়ে ওই ব্যক্তিকে বেশ হতবাক মনে হয়েছে। তিনি বুঝতেই পারছেন না, তার ভিডিওতে দেখা যাওয়া সামান্য একটি ডাস্টবিনের সূত্র ধরে ‘লন্ডন সেন্ট্রিক’ কীভাবে তার বেনামি ও বিদ্বেষপূর্ণ টিকটক অ্যাকাউন্টটি শনাক্ত করে একেবারে তার নিয়োগকর্তা পর্যন্ত পৌঁছে গেল।

“আমি ভেবেছিলাম কেউ এটা লক্ষ্য করবে না,” বলেন তিনি। “কেনই বা কেউ করবে?”

তিনি জানান, গত গ্রীষ্মে নিজের গাড়িতে বসে টিকটকের ট্রেন্ড বিশ্লেষণ করার সময় এই চাকরিজীবী ব্যক্তির মাথায় একটি বুদ্ধি আসে। এস্টেট এজেন্সির হয়ে প্রতিদিন বাড়ি দেখানোই ছিল তার কাজ, কিন্তু এর পাশাপাশি একটি ভাইরাল ভিডিও অ্যাকাউন্ট চালিয়ে বাড়তি অর্থ উপার্জনের স্বপ্ন দেখছিলেন তিনি।

রেকর্ডিংয়ে তাকে বলতে শোনা যায়, “আমি ভাবছিলাম এমন কী অনন্য ভিডিও বানানো যায়, যা মানুষের কাজে লাগবে।”

তখনই তার মাথায় বুদ্ধি আসে—“ঘৃণা ছড়ালে ভিউ বাড়ে।”

সে সময় যুক্তরাজ্যজুড়ে আশ্রয়প্রার্থীদের হোটেলের বাইরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ছিল। তিনি লক্ষ্য করেন, টিকটকে “ডানপন্থী মানুষজন” সবচেয়ে বেশি সক্রিয়। তাদের উসকে দেওয়া সহজ। তিনি বলেন, “তারা অবৈধ অভিবাসীদের এসব ভিডিও ঘৃণা করে। তাই আমি ভাবলাম, কেন নয়?”

এর ফলাফল ছিল Reform_UK_2025 নামের একটি অ্যাকাউন্ট—যা অনুমতি ছাড়াই নাইজেল ফ্যারাজের রাজনৈতিক আন্দোলনের লোগো ও নাম ব্যবহার করছিল। নাইটসব্রিজ ও চেলসির মতো অভিজাত এলাকার বাড়ির ভিডিও ধারণ করে এআই-জেনারেটেড (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত) কণ্ঠে দাবি করা হয়, এসব সম্পত্তি অবৈধ অভিবাসীদের বিনামূল্যে দিয়ে দেওয়া হচ্ছে। কিছু ভিডিওতে বাসিন্দাদের দেখিয়ে তাদের ‘ধর্ষক’ বলে অভিহিত করা হয় এবং বলা হয়, তারা যুক্তরাজ্যের প্রতি ঘৃণা পোষণ করেই বাড়ির চাবি বুঝে নিচ্ছেন।

তাৎক্ষণিকভাবে এটি হিট হয়—ভিডিওগুলোতে কোটি কোটি ভিউ আসে। অথচ ওই ব্যক্তির স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, এর পুরোটাই ছিল মিথ্যা।

“বিপজ্জনক ও বিভেদ সৃষ্টিকারী”

লন্ডন যে একেবারে নিখুঁত শহর, তা বিশ্বাস করার কোনো কারণ নেই। তবে অনলাইনে শহরটিকে যেভাবে তুলে ধরা হচ্ছে আর বাস্তবতার মধ্যে যে ব্যবধান বাড়ছে, তা স্বীকার করতেই হবে।

লন্ডনের মেয়র সাদিক খান ‘লন্ডন সেন্ট্রিক’কে বলেছেন, এই বেনামি টিকটক অ্যাকাউন্ট নিয়ে তাদের সাম্প্রতিক তদন্ত “বিপজ্জনক ও বিভেদ সৃষ্টিকারী” একটি প্রবণতাকে উন্মোচন করেছে, যেখানে “অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ব্যক্তিরা কেবল ক্লিকের আশায় ঘৃণা ছড়াচ্ছেন”।

মেয়র বলেন, “অ্যাকাউন্টগুলো লন্ডনকে খাটো করছে, কারণ অ্যালগরিদম তাদের এজন্য পুরস্কৃত করছে।"

"এক বিপথগামী ঠিকাদার”—পাল্টা দাবি

Reform_UK_2025 অ্যাকাউন্টটি কে চালাচ্ছে তা বের করতে গিয়ে লন্ডন সেন্ট্রিকের তদন্ত তাদের উত্তর লন্ডনের এস্টেট এজেন্সি ‘স্মার্টলেট এস্টেটস’ পর্যন্ত নিয়ে যায়।

কোম্পানির পরিচালক স্যাম ওয়াসারস্ট্রামের কাছে যখন বিষয়টি তোলা হয়, তিনি জানান যে তিনি জানেন কে অ্যাকাউন্টটি চালাচ্ছেন, কিন্তু নাম প্রকাশে তিনি অনিচ্ছুক। শুরুতে তিনি দাবি করেছিলেন, এটি তার কোম্পানি থেকে ফ্ল্যাট ভাড়া নিতে আসা একজন সাধারণ নাগরিকের কাজ।

তবে এখন তিনি স্বীকার করছেন যে সেই তথ্যটি মিথ্যা ছিল—আর বলার সময়ই তিনি জানতেন যে তিনি মিথ্যা বলছেন।

এখন ওয়াসারস্ট্রাম ভিন্ন ব্যাখ্যা দিচ্ছেন। তিনি বলেন, ক্যামেরার পেছনের লোকটি আসলে তার নিয়োগ করা এক “বিপথগামী” ঠিকাদার (Rogue contractor), যিনি দুই বছর ধরে সম্ভাব্য ভাড়াটেদের বাড়ি দেখানোর কাজে নিয়োজিত ছিলেন। ওয়াসারস্ট্রামের দাবি, নভেম্বরে লন্ডন সেন্ট্রিক যোগাযোগ করার আগ পর্যন্ত তিনি জানতেন না যে তার এই কর্মী বিদ্বেষপূর্ণ টিকটক অ্যাকাউন্ট চালাচ্ছেন। পরে তাকে বরখাস্ত করা হয় এবং ক্লায়েন্ট দায়ী বলে সাংবাদিকদের কাছে মিথ্যা তথ্য দেওয়ায় তিনি অনুতপ্ত।

প্রমাণ হিসেবে ওয়াসারস্ট্রাম লন্ডন সেন্ট্রিককে দীর্ঘ অডিও রেকর্ডিংয়ের একাধিক কপি দিয়েছেন, যেখানে তিনি ওই বেনামি কর্মীর মুখোমুখি হয়েছেন বলে দাবি করেন। তার ভাষ্যমতে, একটি রেকর্ডিং লন্ডন সেন্ট্রিককে দোষীর নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানানোর আগের এবং অন্যটি প্রতিবেদন প্রকাশের পরের।

ওয়াসারস্ট্রাম কর্মীর নাম প্রকাশ করেননি এবং তার গল্পের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তবে অডিও ফাইলের মেটাডেটা থেকে বোঝা যায়, কথোপকথনগুলো লন্ডন সেন্ট্রিক প্রশ্ন তোলার সময়ের কাছাকাছি তারিখেই রেকর্ড করা হয়েছে।

টেপ করা এই স্বীকারোক্তি টিকটকে ভুয়া খবরের অ্যাকাউন্ট চালানোর অনুপ্রেরণা সম্পর্কে এক বিরল ধারণা দেয়। এটি দেখায়, বাস্তব জীবনে এর প্রভাব নিয়ে কোনো উদ্বেগ ছাড়াই কীভাবে এনগেজমেন্ট বা ভিউ বাড়িয়ে প্রকারান্তরে ঘৃণাকেই পুঁজি করা হচ্ছে।

“একদিন হয়তো কিছু টাকা আয় হবে”

অডিও টেপে ওয়াসারস্ট্রামের কণ্ঠস্বর স্পষ্ট, যেখানে তিনি অনেকটা এইচআর (HR) স্টাইলে সাক্ষাৎকার নেওয়ার মতো প্রশ্ন করছিলেন।

উত্তরে ওই কর্মী ব্যাখ্যা করেন, অভিবাসনবিরোধী ভুয়া খবরের অ্যাকাউন্ট খোলার অনুপ্রেরণা ছিল খুবই সাধারণ: “একদিন হয়তো কিছু টাকা আয় হবে।”

তার লক্ষ্য ছিল দর্শক তৈরি করে টিকটক থেকে অর্থ উপার্জন করা—কারণ প্ল্যাটফর্মটি নির্দিষ্ট সংখ্যক ভিউ ও ফলোয়ার পেলে কন্টেন্ট মনিটাইজ করার সুযোগ দেয়।

আগে তার একটি টিকটক অ্যাকাউন্ট ছিল, যেখানে ২৪,০০০ ফলোয়ার হয়েছিল। এক রাতে, টিকটকের ‘ক্রিয়েটর স্কিম’ থেকে প্রথম পেমেন্ট পেয়ে তিনি অবাক হয়ে যান।

টাকার অঙ্ক দেখে মুগ্ধ হয়ে তিনি স্ত্রীকে বলেছিলেন: “ওয়াও, পুরো ১,০০০ পাউন্ড!”

কিন্তু এরপরই ঘটে বিপত্তি। টিকটক তার অ্যাকাউন্টটি মুছে দেয়, কারণ তিনি অন্যের ভিডিও চুরি করে পোস্ট করছিলেন।

আয়ের নেশায় আসক্ত হয়ে এবং নতুন ও মৌলিক কন্টেন্টের খোঁজে, তিনি বাড়ি দেখানোর কাজের ফাঁকে লন্ডন জুড়ে বিভিন্ন বাড়ির ভিডিও ধারণ করতে শুরু করেন।

এরপর তিনি এআই-জেনারেটেড ভয়েসওভার যোগ করে সেখানে আশ্রয়প্রার্থী, ধর্ষক ও অবৈধ অভিবাসীদের নিয়ে মিথ্যা গল্প সাজাতেন এবং ভিডিও আপলোড করতেন। দর্শকদের সাড়া মিলত তাৎক্ষণিক ও বিশাল। টিকটকের অ্যালগরিদম লাখ লাখ মানুষের ফিডে ভিডিওগুলো পৌঁছে দিত। ক্ষুব্ধ লন্ডনবাসীরা অভিযোগ করতেন যে তারা বাড়ি ভাড়া নিতে পারছেন না, অথচ অবৈধ অভিবাসীরা বিনামূল্যে পাচ্ছেন—এসব মন্তব্যে এনগেজমেন্ট আরও বেড়ে যেত।

টিকটকের এক মুখপাত্র লন্ডন সেন্ট্রিককে বলেন, তাদের প্ল্যাটফর্মে “ঘৃণার কোনো স্থান নেই”। তিনি আরও বলেন, “নিয়ম ভঙ্গের কারণে আমরা যে কন্টেন্টগুলো সরিয়েছি, তার ৯৪ শতাংশেরও বেশি রিপোর্ট করার আগেই সরানো হয়েছে। ঘৃণার বিরুদ্ধে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে আমরা বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কাজ করছি।”

তবে টেপের ওই ব্যক্তির বক্তব্য ভিন্ন ইঙ্গিত দেয়।

“আমার প্রথম ভিডিওতে এক মিলিয়ন [ভিউ] হয়েছিল,” তিনি বলেন। “বেশিরভাগ ভিডিও ১০,০০০-এর বেশি ভিউ পেত… তাই ভাবলাম, একদিন হয়তো কিছু টাকা আয় হবে।”

টিকটক আমাদের জানিয়েছে: “এই প্রতিবেদনটি একজন বেনামি ব্যক্তির মতামতের ওপর ভিত্তি করে তৈরি, যা টিকটকে প্রতিদিন কোটি কোটি মানুষ যে ইতিবাচক ও সৃজনশীল অভিজ্ঞতা উপভোগ করেন, তার প্রতিনিধিত্ব করে না।"

"লিখেছিলাম ‘অবৈধ অভিবাসী’”

টিকটকার ওই ব্যক্তি তার আপলোড করা ভিডিওর বাস্তব প্রভাব সম্পর্কে সম্পূর্ণ উদাসীন বলে মনে হয়েছে। তার কাছে সবকিছুই কেবল ‘ভিউ কাউন্ট’ আর ‘কন্টেন্ট’। তিনি এমনকি পরামর্শ দেন যে, লন্ডন সেন্ট্রিকের রিপোর্টিং নিয়ে ওয়াসারস্ট্রামের উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই, কারণ তাদের ভিডিও তার মূল ভুয়া ভিডিওগুলোর মতো ভাইরাল হয়নি।

নিজেকে বাঁচাতে তিনি যুক্তি দেন, “তাদের ভিডিও তেমন ভাইরাল হয়নি, তাই এটি উপেক্ষা করা যেতে পারে। টিকটকে তারা মাত্র ২,০০,০০০ ভিউ পেয়েছে। এটি হয়তো হারিয়ে যাবে। বেশিদিন টিকবে না।”

লোকটি ওয়াসারস্ট্রামকে বলেন, তিনি অ্যাকাউন্ট চালানোর কথা স্বীকার করতে চান না কারণ “এটি পরিস্থিতি আরও খারাপ করে দেবে” এবং তার “জীবন নষ্ট” হয়ে যেতে পারে। তাছাড়া, সাংবাদিকরা তাকে “ভাড়াট অভিনেতা” (Paid actor) বলেই মনে করবেন।

রেকর্ডিংয়ে ওয়াসারস্ট্রামকে ওই কর্মীকে বোঝাতে শোনা যায় যে লন্ডন সেন্ট্রিক কীভাবে তাদের খুঁজে বের করেছে। তিনি বলেন, “তারা অফিসে এসেছিল… তোমার সম্পর্কে যা যা ভাবা সম্ভব, সব তথ্যই তাদের কাছে আছে। তারা সব তথ্য যাচাই-বাছাই (Cross-reference) করেছে… ম্যানেজমেন্ট কোম্পানিগুলো ফোন করছে, কাউন্সিলগুলো ফোন করছে, বলছে তোমরা আমাদের ক্লায়েন্টদের বিপদে ফেলছ।”

নিজের কাজের কারণে সৃষ্ট এই পরিস্থিতিতে ওই ব্যক্তিকে বিভ্রান্ত মনে হচ্ছিল। তার কথা শুনে মনে হয়, টিকটকের অ্যালগরিদম আর কন্টেন্ট পলিসিই যেন চূড়ান্ত বিচারক—কোন ভিডিও সীমা অতিক্রম করল আর কোনটা করল না, তা নির্ধারণের দায়িত্ব যেন কেবল তাদেরই।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, কিছু ভিডিওতে যাদের মুখ দেখা গেছে তাদের ওপর প্রভাব ছিল সীমিত, কারণ অন্যান্য কন্টেন্টের তুলনায় সেগুলো “তেমন ভিউ পায়নি”।

নিজের অ্যাকাউন্ট সম্পর্কে তিনি বলেন, “এটি বর্ণবাদী ছিল না।” তার যুক্তি, ভিডিওগুলো সত্যিই বর্ণবাদী হলে টিকটকের অ্যালগরিদম সেগুলোর রিচ (Reach) কমিয়ে দিত। অথচ উল্টো তিনি কোটি কোটি ভিউ পুরস্কার হিসেবে পেয়েছেন। তিনি নিজেকে একজন উদ্যোক্তা হিসেবেই দেখেন, যিনি খুব সহজ একটি কৌশল অনুসরণ করেছিলেন: “প্রতিটি ভিডিওতে আমি মূলত একই জিনিস কপি-পেস্ট করতাম। লিখে দিতাম—‘অবৈধ অভিবাসী’।"

"ক্লিকের জন্য ঘৃণা ছড়ানো”

লন্ডন সেন্ট্রিক তাদের অনুসন্ধানের তথ্য নিয়ে লন্ডনের মেয়র সাদিক খানের কাছে যায়। সম্প্রতি সন্দেহজনক ভাইরাল ভিডিওর কারণে বিশ্বজুড়ে লন্ডন সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হওয়ায় তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

মেয়র আমাদের বলেন, “সোশ্যাল মিডিয়া বিপ্লবের অসাধারণ সুবিধা যেমন আছে, তেমনি পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থার অভাবে মিথ্যা তথ্য ও অনলাইন হয়রানিও বাড়ছে।”

“বড় সোশ্যাল মিডিয়া কোম্পানি ও নিয়ন্ত্রকদের আরও জোরালো ভূমিকা রাখতে হবে, যাতে অ্যালগরিদম ঘৃণা ও সহিংসতাকে উসকে না দেয় এবং মানুষের ফিডে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার না করে।”

তিনি আরও যোগ করেন, “আমাদের গণতন্ত্রকে দুর্বল করে দিচ্ছে কিছু অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ব্যক্তি, যারা কেবল ক্লিকের জন্য ঘৃণা ছড়াচ্ছে।"

"পুলিশে অভিযোগ করেছি”

শুক্রবার ওয়াসারস্ট্রাম জানান, তিনি তার সাবেক কর্মচারীর বিরুদ্ধে তদন্তের জন্য পুলিশের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন।

লন্ডন সেন্ট্রিককে দেওয়া এক বিবৃতিতে এস্টেট এজেন্সির এই কর্ণধার বলেন: “স্মার্টলেট এস্টেটসের মাধ্যমে ভাড়া দেওয়া সম্পত্তিতে ধারণ করা জঘন্য ও চরম বিপজ্জনক টিকটক ভিডিও সম্পর্কে আমরা অবগত। আমরা স্বীকার করি যে, যাদের ভিডিও ধারণ করা হয়েছে এবং যাদের ওপর মিথ্যা অপবাদ চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে, তাদের জন্য এটি বাস্তব হুমকি ছিল। আমরা পুলিশে বিষয়টি রিপোর্ট করেছি।”

“বিষয়টি নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গে আমরা পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করেছি। আমরা নিশ্চিত হয়েছি যে, ভিডিওগুলো একজন তৃতীয় পক্ষের ঠিকাদার (Contractor) তৈরি করেছেন, যিনি কোম্পানির অনুমতি বা সম্মতি ছাড়াই এই কাজ করেছেন। আমরা তাৎক্ষণিকভাবে ওই ঠিকাদারের সঙ্গে সব সম্পর্ক ছিন্ন করেছি। তার এই কর্মকাণ্ডে আমরা বিস্মিত এবং কঠোরতম ভাষায় এর নিন্দা জানাচ্ছি।”

“আমরা স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করতে এবং আমাদের অংশীদার ও কমিউনিটির সঙ্গে আস্থা পুনর্গঠনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পূর্ণ সহযোগিতা করতে এবং যেকোনো তদন্তে সহায়তা করতে প্রস্তুত।”

কেমন লাগলো এই লেখাটি?

প্রাসঙ্গিক লেখা

২টি লেখা
  1. সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীর বয়স ন্যূনতম ১৬ কেন হওয়া উচিত

    অস্ট্রেলিয়ার ১৬ বছর বয়সসীমা আইন বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তুলেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বয়ঃসন্ধির সময় সোশ্যাল মিডিয়া মস্তিষ্কের জন্য ক্ষতিকর।

    সোশ্যাল মিডিয়াশিশু নিরাপত্তাঅস্ট্রেলিয়া
  2. ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও চুল না কাটার পণ

    ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সমর্থক ফ্রাঙ্ক আইলেটের চুল না কাটার প্রতিজ্ঞা কীভাবে আধুনিক ফুটবল ও সোশ্যাল মিডিয়ার মনোযোগ ফুটিয়ে তুলেছে

    ফুটবলম্যানচেস্টার ইউনাইটেডসোশ্যাল মিডিয়া