অস্ত্র যখন ‘কারি মসলা’, নেপথ্যে ভারতীয় কর্মী
জাপানের সাইতামায় ৭৮ লাখ ইয়েন ছিনতাইয়ের অদ্ভুত চেষ্টা। কারি মসলা ছিটিয়ে জাপানি ব্যবসায়ীকে অন্ধ করার চেষ্টা করল তারই ভারতীয় কর্মচারী ও সহযোগীরা।
• ৩ মিনিট
নিজেই নিজের মুখে ঘুষি মেরে ডাকাতির নাটক সাজালেন রামেন দোকানের ম্যানেজার
বোধ হয় আরও জোরে মারলে ভালো হতো—তাহলে হয়তো বুদ্ধিটা ঠিকঠাক কাজ করত!
রামেন ব্যবসায় এখন বেশ কঠিন সময় যাচ্ছে। খাদ্যপণ্যের দাম ক্রমাগত বাড়ছে, সঙ্গে প্রতিযোগিতাও তীব্র। দাম কম রাখতে গিয়ে লাভের মার্জিন কমে এসেছে। তবে এই পরিস্থিতির মধ্যে একজনের কথা না বললেই নয়—তিনি রামেন দোকানে কর্মরত এক প্রতারক ম্যানেজার। লাভ কমে আসায় এমনিতেই টাকা তছরূপের সুযোগ পাচ্ছিলেন না তিনি। তাই দুঃসময়ে বেছে নিলেন এক বেপরোয়া পথ।
গত ২৩ অক্টোবর, রাত সাড়ে নয়টার দিকে, সাইতামা প্রিফেকচারের নামেগাওয়ায় অবস্থিত কুমামোতো রামেন ইকুগেন শাখার ৩৬ বছর বয়সী ম্যানেজার পুলিশের জরুরি নম্বরে ফোন দেন। তিনি জানান, ছুরি দেখিয়ে তাঁর দোকানে ডাকাতি হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তিনি দাবি করেন, দোকান বন্ধ করার পরপরই এক ডাকাত তাঁকে আক্রমণ করে। মুখে ঘুষি মেরে প্রায় ৬ লাখ ৭০ হাজার ইয়েন (প্রায় ৪ হাজার ৩০০ মার্কিন ডলার) নগদ টাকা লুট করে নিয়ে গেছে।
সাইতামা প্রিফেকচার পুলিশ তদন্ত শুরু করে। কিন্তু তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে কিছু অসঙ্গতি পুলিশের চোখে পড়ে। সবচেয়ে বড় বিষয়—ডাকাতির সময় আশেপাশের কোনো সিসিটিভি ফুটেজে অভিযুক্তের বর্ণনার সঙ্গে মিল আছে, এমন কাউকে দেখা যায়নি।
কোনো চতুর চোরের কাজ হতে পারে ভেবে পুলিশ সতর্কতার সঙ্গে অন্য সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখতে থাকে। একপর্যায়ে তাদের সন্দেহ গিয়ে পড়ে ম্যানেজারের ওপর। তাঁর স্মার্টফোন পরীক্ষা করে দেখা যায়, সার্চ হিস্ট্রিতে ‘নকল ডাকাতির শিকার’—এমন শব্দগুচ্ছ রয়েছে। এই প্রমাণের মুখে ম্যানেজার স্বীকার করেন যে, জীবনযাত্রার খরচ মেটাতে ও পাচিঙ্কো (এক ধরনের জুয়া খেলা) খেলার নেশায় তিনি টাকা আত্মসাৎ করেছিলেন। আর মুখের আঘাত? সেটি তিনি নিজেই নিজেকে মেরেছিলেন।
গত ২৯ জানুয়ারি জরুরি নম্বরে মিথ্যা তথ্য দেওয়া ও পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ এখন তাঁর স্বীকারোক্তি অনুযায়ী অর্থ আত্মসাতের বিস্তারিত তথ্য খতিয়ে দেখছে। পরবর্তীতে তাঁর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হবে।
এদিকে খবরটি পড়ে পাঠকরা বলছেন, শহরাঞ্চলে যেখানে এত সিসিটিভি ক্যামেরা, সেখানে এমন কাণ্ড করে পার পাওয়া কঠিন।
এই ঘটনায় একটা ভালো দিকও আছে। কুমামোতো রামেন ইকুগেনের সৎ কর্মীরা এখন বেশ প্রচার পাচ্ছেন এবং তাঁদের সুস্বাদু রান্নার প্রশংসাও হচ্ছে। হয়তো এই ঘটনা আমাদের সবার জন্য একটা শিক্ষা—নিজেদের পছন্দের রেস্তোরাঁয় গিয়ে সমর্থন জানানো উচিত, না হলে হয়তো ম্যানেজাররা হতাশ হয়ে নিজেরাই নিজেদের মুখে ঘুষি মারতে শুরু করবেন!