skip to content
গুলবাহার
কিম জং উন ও কিম জু-এর ছবি

কিম জং উনের উত্তরাধিকারী হলেন কন্যা কিম জু-এ

• ৪ মিনিট

দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা জানিয়েছে, উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন তাঁর কন্যাকে উত্তরাধিকারী হিসেবে মনোনীত করেছেন। বৃহস্পতিবার দেশটির আইনপ্রণেতাদের কাছে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স সার্ভিস (এনআইএস)।

১৩ বছর বয়সী কিম জু-একে সম্প্রতি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে বাবার পাশে দেখা গেছে। জানা গেছে, গত সেপ্টেম্বরে চীনের বেইজিং সফর ছিল তাঁর প্রথম বিদেশ ভ্রমণ।

এনআইএস জানায়, বিভিন্ন সরকারি অনুষ্ঠানে কিম জু-এর ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি ও আনুষঙ্গিক নানা পরিস্থিতি বিবেচনা করে এই মূল্যায়ন করা হয়েছে। সংস্থাটি আরও জানায়, চলতি মাসের শেষে অনুষ্ঠিতব্য দলীয় কংগ্রেসে তিনি উপস্থিত থাকবেন কি না, তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। প্রতি পাঁচ বছর পর পর অনুষ্ঠিত দেশটির বৃহত্তম এই রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রনীতি, সমর পরিকল্পনা ও পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়ে বিস্তারিত রূপরেখা তুলে ধরে পিয়ংইয়ং।

আইনপ্রণেতা লি সেং-কোয়েন সাংবাদিকদের জানান, এতদিন এনআইএস জানিয়ে আসছিল যে কিম জু-একে ‘উত্তরাধিকারী হিসেবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে’। তবে এখন তিনি ‘মনোনীত উত্তরাধিকারী’র পর্যায়ে পৌঁছেছেন বলে মনে করা হচ্ছে।

লি বলেন, “কোরিয়ান পিপলস আর্মির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও কুমসুসান প্যালেস অব দ্য সান পরিদর্শনসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে কিম জু-এর উপস্থিতি এবং কিছু রাষ্ট্রীয় নীতিতে তাঁর মতামতের প্রতিফলন লক্ষ্য করা গেছে। এসব বিবেচনায় এনআইএস মনে করে, তাঁর অবস্থান এখন মনোনীত উত্তরাধিকারীর পর্যায়ে রয়েছে।”

কিম জং উন ও তাঁর স্ত্রী রি সোল জুর সন্তান হিসেবে জনসমক্ষে কেবল কিম জু-এর নামই শোনা যায়। এনআইএসের ধারণা, কিম জং উনের একটি বড় ছেলেও রয়েছে, তবে উত্তর কোরিয়ার গণমাধ্যমে তাকে কখনো স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি বা জনসমক্ষে আনা হয়নি।

কিম জু-এর অস্তিত্বের খবর প্রথম জানা গিয়েছিল অপ্রত্যাশিত একটি সূত্র থেকে। ২০১৩ সালে মার্কিন বাস্কেটবল খেলোয়াড় ডেনিস রডম্যান ‘দ্য গার্ডিয়ান’-কে জানিয়েছিলেন, উত্তর কোরিয়া সফরকালে তিনি “শিশু জু-একে কোলে নিয়েছিলেন”।

২০২২ সালে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রথমবারের মতো জনসমক্ষে আসেন কিম জু-এ। সে সময় বাবার হাত ধরে উত্তর কোরিয়ার নতুন আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র পরিদর্শন করতে দেখা যায় তাকে।

এরপর থেকে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে তাঁর উপস্থিতি ক্রমশ বেড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, একজন নির্মম একনায়কের ভাবমূর্তি নমনীয় করতেই এই কিশোরীকে সামনে আনা হচ্ছে। চীনের সবচেয়ে বড় সামরিক কুচকাওয়াজ বা প্যারেডে বাবার সঙ্গে বেইজিংয়েও গিয়েছিলেন তিনি। বেইজিং রেলওয়ে স্টেশনে বাবার সাঁজোয়া ট্রেন থেকে তাকে নামতে দেখা গেছে।

সমবয়সীদের জন্য নিষিদ্ধ লম্বা চুল এবং সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরের ডিজাইনার পোশাকে প্রায়শই তাকে দেখা যায়।

আরেক আইনপ্রণেতা পার্ক সুন-ওন বলেন, সরকারি অনুষ্ঠানে কিম জু-এর ভূমিকা থেকে বোঝা যায়, তিনি নীতি নির্ধারণে অবদান রাখতে শুরু করেছেন এবং তাকে কার্যত (de facto) দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

কিম পরিবারে তিন প্রজন্ম ধরে ক্ষমতার উত্তরাধিকার চলে আসছে। ব্যাপকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, কিম জং উন কন্যা কিম জু-এর কাছেই ক্ষমতা হস্তান্তর করবেন।

সম্প্রতি তাকে বাবার পেছনে অনুসরণ করার পরিবর্তে বাবার পাশে বা কিছুটা সামনে এগিয়ে হাঁটতে দেখা গেছে, যা তাঁর ক্রমবর্ধমান গুরুত্বের ইঙ্গিত বহন করে।

উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবির প্রতীকী তাৎপর্য অনেক। সেখানে কিম জং উনের সমান গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে অন্য কাউকে দেখা খুবই বিরল ঘটনা।

তবে দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা কিম জু-একে মনোনীত উত্তরাধিকারী মনে করলেও এ নিয়ে নানা প্রশ্ন থেকেই যায়।

উত্তর কোরিয়ার গভীর পিতৃতান্ত্রিক সমাজে বড় ছেলেকে বাদ দিয়ে কন্যা কিম জু-একে মনোনীত করার কারণ বোঝা বেশ কঠিন। দেশটির রক্ষণশীল লিঙ্গ প্রথার কথা উল্লেখ করে অনেক বিশ্লেষক ও দেশত্যাগী উত্তর কোরীয় নাগরিক নারীর নেতৃত্বে উত্তর কোরিয়া চলার ধারণাকে অসম্ভব বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন। তবে কিম জং উনের বোন কিম ইয়ো জং নারী কর্তৃত্বের একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

কিম ইয়ো জং বর্তমানে ওয়ার্কার্স পার্টি অব কোরিয়ার কেন্দ্রীয় কমিটিতে উচ্চপদে রয়েছেন এবং ভাইয়ের ওপর তাঁর যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে বলে জানা যায়।

আবার প্রশ্ন উঠছে, কিম জং উন এখনো অপেক্ষাকৃত তরুণ এবং শারীরিকভাবে সুস্থ; তাহলে এখনই কেন ১৩ বছর বয়সী একটি শিশুকে উত্তরাধিকারী মনোনীত করছেন?

কিম জু-এর উত্তরাধিকারী হওয়া উত্তর কোরিয়ায় আদতে কী পরিবর্তন আনবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

একসময় অনেক উত্তর কোরীয় আশা করেছিলেন, কিম জং উন পশ্চিমা শিক্ষাগ্রহণকারী তরুণ হিসেবে বাবার উত্তরাধিকারী হলে দেশকে বিশ্বের কাছে উন্মুক্ত করে দেবেন।

কিন্তু সেই আশা পূরণ হয়নি। এই কিশোরীর দেশ নিয়ে যে পরিকল্পনাই থাকুক না কেন, তিনি সম্ভবত নিজের ইচ্ছা অনুযায়ীই দেশটিকে গড়ে তুলতে পারবেন—কারণ একনায়কতান্ত্রিক ক্ষমতা তাঁর হাতেই ন্যস্ত থাকবে।

কেমন লাগলো এই লেখাটি?

প্রাসঙ্গিক লেখা

৩টি লেখা
  1. 'কেউ হয়তো আমাদের পরীক্ষা করছে': পারমাণবিক যুদ্ধের শঙ্কায় বিশ্ব

    ১৯৯৫ সালে নরওয়ের একটি সাধারণ আবহাওয়া রকেটকে কেন্দ্র করে রাশিয়া ও পশ্চিমাদের মধ্যে পারমাণবিক যুদ্ধের উপক্রম হয়েছিল। জানুন সেই শ্বাসরুদ্ধকর ঘটনার বিস্তারিত।

    ইতিহাসআন্তর্জাতিকরাশিয়া
  2. কেপপ ডেমন হান্টার্সের পিছনের রূপকার

    নেটফ্লিক্সের জনপ্রিয় অ্যানিমেশন ছবি কে-পপ ডেমন হান্টার্সের পরিচালক ম্যাগি ক্যাংয়ের অনুপ্রেরণাদায়ক গল্প। দক্ষিণ কোরিয়ার সংস্কৃতি বিশ্বে তুলে ধরার অঙ্গীকার থেকে অস্কার মনোনয়নের পথ।

    কে-পপনেটফ্লিক্সঅ্যানিমেশন
  3. অস্ত্র যখন ‘কারি মসলা’, নেপথ্যে ভারতীয় কর্মী

    জাপানের সাইতামায় ৭৮ লাখ ইয়েন ছিনতাইয়ের অদ্ভুত চেষ্টা। কারি মসলা ছিটিয়ে জাপানি ব্যবসায়ীকে অন্ধ করার চেষ্টা করল তারই ভারতীয় কর্মচারী ও সহযোগীরা।

    আন্তর্জাতিকজাপানঅপরাধ