সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীর বয়স ন্যূনতম ১৬ কেন হওয়া উচিত
অস্ট্রেলিয়ার ১৬ বছর বয়সসীমা আইন বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তুলেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বয়ঃসন্ধির সময় সোশ্যাল মিডিয়া মস্তিষ্কের জন্য ক্ষতিকর।
• ৫ মিনিট
“আমি তার চুল নিয়ে একদমই ভাবি না,” এই সপ্তাহে বলেছেন ম্যাথেউস কুনহা। ব্রুনো ফার্নান্দেস গত সপ্তাহান্তে জানিয়েছিলেন, “সত্যি বলতে, কার চুল কাটা দরকার আর কার দরকার নেই—সেদিকে আমি তাকাই না।” মাইকেল ক্যারিক জানিয়েছেন, তিনি চুলের এই বিষয়টি সম্পর্কে অবগত। তবে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কোচ দৃঢ়ভাবে বলেছেন, মঙ্গলবার রাতে ওয়েস্ট হ্যামের বিপক্ষে ম্যাচের প্রস্তুতিতে এটি কোনো প্রভাব ফেলবে না।
আর এভাবেই আমরা এই অদ্ভুত পরিস্থিতিতে এসে দাঁড়িয়েছি। ইতিহাসের অনেক ফুটবল ম্যাচ তাদের আসল গুরুত্ব ছাপিয়ে অন্য কারণে স্মরণীয় হয়ে আছে: ১৯১৪ সালের ক্রিসমাস ট্রুস, ১৯৬২ সালের ব্যাটল অব সান্তিয়াগো, কিংবা ২০২০ সালের মহামারীকালীন লিভারপুল-আতলেতিকো মাদ্রিদ ম্যাচ। এবার সেই তালিকায় যোগ হলো ‘চুল কাটার ম্যাচ’—লন্ডন স্টেডিয়ামে ১-১ গোলের একটি সাধারণ প্রিমিয়ার লিগ ড্র, যা ইতিহাসে জায়গা করে নেবে একজন মানুষের শেষ পর্যন্ত চুল না কাটার ঘটনা হিসেবে।
চুল কাটার এই বিষয়টি ম্যাচের আগের প্রস্তুতি, লাইভ কমেন্ট্রি এবং টিএনটি স্পোর্টসের ম্যাচ-পরবর্তী বিশ্লেষণের মূল আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছিল। ভিডিও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম ‘কিক’-এ দেড় লাখ দর্শক সরাসরি দেখেছেন লম্বা চুলের ফ্রাঙ্ক আইলেটকে—যিনি এখন ‘দ্য ইউনাইটেড স্ট্র্যান্ড’ নামে পরিচিত। তিনি তার প্রিয় দল ইউনাইটেডকে পঞ্চম জয়ের জন্য উৎসাহ দিচ্ছিলেন, যা তাকে এই চুল না কাটার ‘অভিশপ্ত দশা’ থেকে মুক্তি দিতে পারত।
টমাস সুচেকের গোলে ইউনাইটেড যখন পিছিয়ে পড়ে, ক্যামেরা তখন মাঝেমধ্যেই আইলেটের দিকে জুম করছিল। আজীবন ইউনাইটেড সমর্থক এই যুবক এখন যেন এক দ্বিমুখী সংকটে আটকা—একদিকে দলের প্রতি ভালোবাসা, অন্যদিকে তার প্রতিজ্ঞা। ২০২৪ সালের অক্টোবরে তিনি পণ করেছিলেন, সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা পাঁচ ম্যাচ জয় না হওয়া পর্যন্ত চুল কাটবেন না। তখন থেকেই তার ভাইরাল খ্যাতি, ব্যক্তিগত অর্থনৈতিক স্বাচ্ছন্দ্য এবং হয়তো তার পরিচয়ই জড়িয়ে গেছে ইউনাইটেডের খারাপ খেলার সঙ্গে।
দল যত খারাপ খেলেছে, তার চুল তত লম্বা হয়েছে, ইনস্টাগ্রামে অনুসারীর সংখ্যাও পাল্লা দিয়ে বেড়েছে। সেই সঙ্গে বেড়েছে ব্র্যান্ড ও করপোরেট পার্টনারদের আনাগোনা। এখন তার একটি ট্যালেন্ট এজেন্সির সঙ্গে চুক্তি আছে, কন্টেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে তার ক্যারিয়ার গ্রাফ ওপরের দিকে এবং পকেটভর্তি সব বিজ্ঞাপনী চুক্তি।
সোমবার সকালে তিনি সংবাদ সম্মেলন করেছেন—যেখানে উপস্থিত ছিল টেলিগ্রাফ, সিবিএস এবং ল’ইকিপ-এর মতো সংবাদমাধ্যম। মঙ্গলবার সকালে আরগস (Argos) থেকে একটি প্রেস রিলিজ আসে, যেখানে জানানো হয় আইলেটকে ‘অফিসিয়াল ডেলিভারি পার্টনার’ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। অভিশাপ ভাঙার সঙ্গে সঙ্গেই তার বাড়িতে ট্রিমার ও চুল স্টাইলিং পণ্য পাঠিয়ে দেওয়া হবে।
এবার একটু পেছনের প্রসঙ্গে আসা যাক। আমরা এই চুল কাটা লোকটিকে নিয়ে কেন কথা বলছি? কারণ একটি বড় অর্থে, এই চুল না কাটা লোকটি আমাদের বর্তমান অবস্থারই একটি নিখুঁত প্রতিচ্ছবি—নেশাতুরভাবে স্মার্টফোন স্ক্রল করা, মনোযোগ অর্থনীতির বন্দি এবং স্বেচ্ছায় সেই একই খেলায় অংশ নেওয়া যা আমাদের দাস বানিয়েছে। ২০২৬ সালের ফুটবল—যা উনিশ শতকের ইংল্যান্ডের খেলার মাঠে জন্ম নিয়েছিল এবং দল ও লিগের মাধ্যমে সংগঠিত হয়েছিল—তা এখন মূলত একজন ব্যক্তির সোশ্যাল মিডিয়া ‘ক্লাউট’ বা প্রভাব বিস্তারের জন্য চুল না কাটার প্রদর্শনীর কাছে জিম্মি।
এটি যদি বাড়াবাড়ি মনে হয়, তবে ভেবে দেখুন—এই সপ্তাহে এক ডজন সাক্ষাৎকারে কুনহা জানিয়েছেন, ইউনাইটেডের ড্রেসিংরুমে খোলামেলাভাবেই সেই চুল না কাটা লোকটিকে নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। তিনি বলেছেন “চুলের চাপ”—এই বাক্যটি এখন “জার্সির ওজন”-এর পাশাপাশি ফুটবলের একটি প্রকৃত প্রবচনে পরিণত হতে চলেছে। কন্টেন্ট কি ফুটবল থেকে রসদ নিচ্ছে, নাকি ফুটবল নিচ্ছে কন্টেন্ট থেকে? এখন দুটির মধ্যে পার্থক্য করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
এখানে দুটি প্রশ্ন সামনে আসে। প্রথমটি: ফুটবল কি আদৌ এখন আর মূলত জয়-পরাজয়ের বিষয়? এক সময় এর উত্তর ছিল সহজ। কিন্তু অ্যালগরিদমের এই যুগে, যখন মাঠ এবং এর চারপাশের মিডিয়া ইকোসিস্টেমকে অভিজাত বিজ্ঞাপনী ক্ষেত্র হিসেবে দেখা হয়, যখন ক্রীড়াপণ্য নিজেদের বিক্রি করে মনোযোগ ও সাফল্য উভয়ের ওপর ভিত্তি করে—তখন উত্তরটা আর সহজ থাকে না।
বিশ্বের সবচেয়ে লাভজনক বক্সার জেক পল একজন ভয়াবহ বাজে ফাইটার। সবচেয়ে লাভজনক নারী রাগবি খেলোয়াড় ইলোনা মাহার, যার জন্য রাগবি না খেলাটা কেবল সামান্য একটি অসুবিধা মাত্র। ভারত বিশ্ব ক্রিকেটের পরাশক্তি—তারা জিতুক বা হারুক। রেক্সহাম লিগে ওপরে উঠুক বা নিচে নামুক, পণ্যের কাটতির জন্য কি তা সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ? গত ১৩ বছরের ব্যর্থতা কি ইউনাইটেডের ব্যবসায়িক মুনাফা, করপোরেট প্রভাব কিংবা ভিউ জেনারেট করার ক্ষমতায় কোনো নেতিবাচক পার্থক্য গড়েছে?
নিশ্চয়ই ইউনাইটেডের খারাপ খেলার এই দৃশ্যমানতা অনেক পার্শ্বচরিত্রকে সুবিধা করে দিয়েছে: আইলেট, অ্যান্ডি টেইট, মার্ক গোল্ডব্রিজ, রুবেন আমোরিম। মঙ্গলবার আর্নে স্লট ব্যাখ্যা করেছেন, লিভারপুলকে অবশ্যই চ্যাম্পিয়নস লিগে যোগ্যতা অর্জন করতে হবে অর্থনৈতিক কারণে—শুধুমাত্র জেতার সুযোগ পাওয়ার জন্য নয়। আধুনিক ফুটবল ক্লাব যেন নিছক টিকে থাকার জন্যই টিকে আছে, যাতে তারা তাদের প্রাথমিক কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারে: কন্টেন্ট তৈরি করা এবং খেলোয়াড় কেনা, যাতে আরও বেশি কন্টেন্ট তৈরি করা যায়।
দ্বিতীয় প্রশ্ন: এসবের উদ্দেশ্য কী? এমন একটি বিশ্বে জীবনের শেষ লক্ষ্য কী, যেখানে শোষণমূলক কাঠামো এবং প্রযুক্তি-পুঁজিবাদী (technocapitalist) মনোযোগ দখলের প্রতিযোগিতা মানুষের নিজস্ব সত্তা বা ক্ষমতা হরণ করে নেয়?
আইলেটের দিকে আঙুল তোলা সহজ—অক্সফোর্ডের এক ধনী ছেলে, যে এক সময় লোকচক্ষুর অন্তরালে থাকত, এখন লাইভস্ট্রিমে বেটিং প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনে নিজেকে মুড়িয়ে ফেলেছে। সম্প্রতি ওল্ড ট্রাফোর্ডে গিয়ে এক ইউনাইটেড সমর্থক ক্ষোভে তার চুল ধরে টানও দিয়েছেন। কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্স এবং অ্যালগরিদমের নিরঙ্কুশ আধিপত্যে নতুন করে সাজানো এই বিশ্বে, তিনি কি বৈরী পরিবেশে টিকে থাকার একমাত্র পথ হিসেবে এই ভূমিকাকেই বেছে নেননি?
এখন সবকিছু একই ফিডে পাওয়া যায়—যতই অদ্ভুত মনে হোক না কেন, নতুন টেইলর সুইফট ভিডিও থেকে গাজার অনাহারী শিশু, কিংবা ‘দ্য ইউনাইটেড স্ট্র্যান্ড’—সবাই একই স্থানে, একই বাঁকা নিয়মে কথার খেই খুঁজছে। আপনারা কী ভেবেছিলেন, ইনফ্লুয়েন্সাররা আসলে কী? শুধুই ভাইব, গবেষণাপত্র বা প্রবন্ধ? তার নির্লজ্জ ভণ্ডামি আর না-কাটা চুলে, ইউনাইটেডের সেই চুল না কাটা লোকটি অন্তত আমাদের প্রকৃত অবস্থার একটি আয়না ধরে দাঁড়িয়ে আছে।
সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীর বয়স ন্যূনতম ১৬ কেন হওয়া উচিত
অস্ট্রেলিয়ার ১৬ বছর বয়সসীমা আইন বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তুলেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বয়ঃসন্ধির সময় সোশ্যাল মিডিয়া মস্তিষ্কের জন্য ক্ষতিকর।
টিকটকারের স্বীকারোক্তি: "ঘৃণা ছড়ালে ভিউ বাড়ে"
লন্ডনের বাড়িভাড়া দেখানোর কাজের আড়ালে ভুয়া অভিবাসনবিরোধী ভিডিও বানিয়ে টিকটকে কোটি কোটি ভিউ পাওয়া এক ব্যক্তির স্বীকারোক্তি।
ফুটবলের ভেতরেই রোনালদোর ফুটবল-উত্তর যাত্রা
সৌদিতে না খেললেই বেশি আলোচনা হচ্ছে রোনালদোর। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো এখন ফুটবলের বাইরেও তারকা, যা তার খেলার চেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।