ক্রিকেটের ইতিহাস
ফুটবলের পর ক্রিকেটই বিশ্বের দ্বিতীয় জনপ্রিয় খেলা। ২৫০ কোটি অনুসারী নিয়ে এই খেলার উৎপত্তি থেকে আধুনিক যুগ পর্যন্ত সম্পূর্ণ ইতিহাস জানুন।
লেখকের কথা
মার্কিন শেরিফ পদটি ঔপনিবেশিক আমল থেকেই চলে আসছে। ইংল্যান্ডে শেরিফ বা ‘শায়ারের রিভ’ রাজকীয় নিয়োগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, কর আদায় এবং ‘পসে কমিটাটাস’ (স্বেচ্ছাসেবী দল) গঠন করতেন। স্বাধীনতা যুদ্ধের পর এই ব্রিটিশ প্রথাটি একটি নির্বাচিত পদে পরিণত হয়। কিন্তু ২৫০ বছর পরও কিছু মার্কিন শেরিফ মনে করেন যে, তাদের এখনো কোনো রাজার কাছে জবাবদিহি করতে হবে—আর সেই রাজার অনুপস্থিতিতে তারা নিজেরাই পরম ক্ষমতার অধিকারী।তখন আমি ভেবেছিলাম, আমার কাজ হলো ইতিহাসের সাদা-কালো রেকর্ডগুলো সংশোধন করা এবং ‘নিজের সময়ের কিংবদন্তি’ হিসেবে পরিচিত এক ব্যক্তির চারপাশের প্রেক্ষাপট তুলে ধরা। এখন আমি লামি জেনকিন্সকে আলাদা চোখে দেখি। এটি শুধু একজন মানুষের অন্ধকার সত্য নয়, বরং ‘সাংবিধানিক শেরিফ’ তৈরির একটি কেস স্টাডি—যে ক্ষমতার ধরনটি সব ধরনের গণতান্ত্রিক সংস্কারের ঢেউয়ের মুখেও টিকে আছে।
— আলেকজান্দ্রা মারভার
আলাবামার ক্যামডেনে ৭০ বছরের বেশি বয়সী যে কাউকেই জিজ্ঞেস করুন, তারা লামি জেনকিন্সের গল্প বলতে পারবেন। ১৯৩৯ থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত উইলকক্স কাউন্টির শেরিফ ছিলেন তিনি। তৎকালীন দক্ষিণাঞ্চলীয় সংবাদপত্রগুলোর মতে, পার্সি কলম্বাস জেনকিন্স—যিনি শেরিফ লামি, মিস্টার লামি বা শুধু লামি নামে পরিচিত ছিলেন—তিনি ছিলেন “একজন চমৎকার গল্পকার,” “মনস্তত্ত্বের জাদুকর” এবং “আধুনিক যুগের নায়ক।”
কথিত আছে, অঞ্চলের অন্যান্য শেরিফদের মতো লামিকে কোনো অস্ত্র বহন করতে হতো না কিংবা সন্দেহভাজনদের খোঁজে হন্যে হয়ে ঘুরে বেড়াতে হতো না। এর পরিবর্তে তিনি তাঁর ‘চায়নাবেরি’ কাঠের ডেস্কে বসে পাইপে ‘প্রিন্স আলবার্ট’ তামাক ভরতেন এবং কেবল মৌখিক ডাক দিলেই অপরাধীরা স্বেচ্ছায় ক্যামডেনের ডাউনটাউনে উইলকক্স কাউন্টি কোর্টহাউসে হাজির হতো। ভয়ে হোক বা সম্মানে—কিংবদন্তি অনুযায়ী, সন্দেহভাজনরা নিজেরাই ধরা দিত।
আলাবামায় টানা আট মেয়াদে প্রধান আইন প্রয়োগকারী হিসেবে লামির সময়কাল ছিল রেকর্ড সৃষ্টিকারী। তাঁর মেয়াদের বেশিরভাগ সময় কেটেছে ‘মিরান্ডা রাইটস’ বা আইনি অধিকার কার্যকর হওয়ার আগে—যা ১৯৬৬ সালে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের মাধ্যমে সংবিধানে স্থান পায়। ফলে তাঁর স্বীকারোক্তি আদায়ের কৌশল নিয়ে অসংখ্য গল্প প্রচলিত আছে; যার কিছু সত্য, আবার কিছু হয়তো লোককথা।
সংবাদপত্রে প্রকাশিত দাবি অনুযায়ী, তিনি জাদুবিদ্যা, মনস্তত্ত্ব এবং ভয়ংকর “ট্রুথ মেডিসিন” বা সত্যের ওষুধ ব্যবহার করতেন। তাঁর অফিসে লিস্টারিনের একটি কাঁচের বোতল রাখা থাকত, যার লেবেলে লেখা ছিল— “মিথ্যা বললে পক্ষাঘাতগ্রস্ত (প্যারালাইজড) হয়ে যাবেন।” মানুষ বলত, লামির ক্ষমতা সাধারণ আইন প্রয়োগকারীদের চেয়ে অনেক বেশি ছিল।
বলা যায়, আইন প্রয়োগ যেন তাঁর রক্তেই মিশে ছিল। তাঁর বাবা পি. সি. জেনকিন্স সিনিয়র ১৯১১ থেকে ১৯১৪ সাল পর্যন্ত উইলকক্স কাউন্টির শেরিফ ছিলেন। লামি মাত্র ১২ বছর বয়সে স্কুল ফাঁকি দিয়ে ক্যামডেনের টাউন স্কয়ারে তাঁর বাবার তত্ত্বাবধানে একজনের ফাঁসি কার্যকর করার দৃশ্য দেখেছিলেন। “প্রচণ্ড ভিড় ছিল,” পরবর্তী সময়ে তিনি স্মরণ করে বলেছিলেন, “মনে হচ্ছিল যেন ঠিক কোনো মেলার দিন।”
উইলকক্স কাউন্টি আলাবামার ‘ব্ল্যাক বেল্ট’ অঞ্চলে অবস্থিত। গাঢ় কৃষ্ণবর্ণ মাটি এবং কৃষ্ণাঙ্গ বাসিন্দাদের ঘনত্বের কারণেই এই নাম। এখানে দাসপ্রথার ইতিহাস অত্যন্ত গভীর; গৃহযুদ্ধের ঠিক আগে দক্ষিণের খুব কম কাউন্টিতেই এত বেশি সংখ্যক দাস ছিল। শেরিফের আওতাধীন এলাকায় রয়েছে ক্যামডেন শহরসহ আরও চারটি ছোট জনপদ, পরিত্যক্ত তুলা বাগান এবং পাইন বনের মাঝ দিয়ে চলে যাওয়া দুই লেনের আঁকাবাঁকা হাইওয়ে ও লাল মাটির রাস্তার জটলা। ১৯৬০ সালে উইলকক্স কাউন্টিতে প্রায় ১৮,০০০ বাসিন্দা ছিল, যার ৭৮ শতাংশই ছিলেন কৃষ্ণাঙ্গ। বর্তমানে জনসংখ্যা ১০,০০০-এর কম এবং ৭০ শতাংশের বেশি মানুষ কৃষ্ণাঙ্গ। তৎকালীন সময়ের মতো এখনো উইলকক্স আমেরিকার দরিদ্রতম কাউন্টিগুলোর তালিকার শীর্ষে রয়েছে।
২০০৮ সালে লামির নাতনি ডেলিন জেনকিন্স হ্যালোরান তাঁর দাদার সেই সোনালি খ্যাতির গুণগান গেয়ে “লামি জেনকিন্স: দ্য আনআর্মড শেরিফ অফ উইলকক্স কাউন্টি” শিরোনামে একটি বই প্রকাশ করেন। বিভিন্ন সংবাদপত্রের নিবন্ধ এবং প্রশংসাসূচক লেখা নিয়ে তৈরি এই বইটিতে অবদান রেখেছিলেন শ্বেতাঙ্গ পরিবারের সদস্য, সাংবাদিক, কংগ্রেসম্যান, গভর্নর এবং পার্শ্ববর্তী কাউন্টির শ্বেতাঙ্গ শেরিফরা। এমনকি তাদের স্ত্রীরাও এতে যুক্ত ছিলেন। তথ্যের আরেকটি বড় উৎস ছিল খোদ লামি জেনকিন্স; তাঁর জীবনের শেষ বছরগুলোতে রেকর্ড করা আত্মজীবনীমূলক কিছু অডিও ক্যাসেট।
১৬৮ পৃষ্ঠার এই পেপারব্যাক বইটির প্রচ্ছদে শেরিফের একটি রঙিন ছবি রয়েছে। সেখানে দেখা যায়, তিনি হাসিমুখে একটি সাদা কাউবয় হ্যাট পরেছেন এবং ইট-লাল রঙের শার্টের ওপর সাদা রঙের ভেস্টের বোতাম লাগানো। বুকের ঠিক মাঝখানে তাঁর প্রিয় পিস্তল-থিমের টাই ক্লিপটি জ্বলজ্বল করছে। ১৯৬৮ সালে বার্মিংহাম নিউজের জন্য তোলা এই ছবিতে লামি উইলকক্স কাউন্টি কোর্টহাউসের ‘অ্যান্টেবেলাম’ স্থাপত্যের পিলারের সামনে একটি শেরিফের গাড়িতে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন এবং মোটা চশমার ভেতর দিয়ে সরু চোখে তাকিয়ে আছেন। ছবির ক্যাপশনে লেখা: “উইলকক্স কাউন্টির অস্ত্রহীন শেরিফ সবসময় তাঁর লক্ষ্য অর্জন করেন।”
২০১৮ সালের শরৎকালে আমি ওই স্থানটি পরিদর্শনে যাই। কোর্টহাউসটি এখনো বার্মিংহাম নিউজের সেই ছবির মতোই দেখতে; এমনকি জিম ক্রো যুগের বর্ণবাদী পানীয় ফোয়ারাটিও এখনো ঘাসের ঝোপের আড়ালে টিকে আছে, যদিও সেখানে কোনো চিহ্ন নেই। কয়েক মাস আগে আমি পাশের একটি সম্প্রদায় ‘গিস বেন্ড’-এ নকশিকাঁথা (কুইল্ট) তৈরির কিংবদন্তি কারিগরদের সাথে দেখা করতে এসেছিলাম। লামি জেনকিন্স মারা গেছেন প্রায় চল্লিশ বছর আগে, কিন্তু গিস বেন্ডের মানুষের মুখে এখনো সেই মৃত শেরিফ এবং তাঁর নাতনির বইয়ের কথা বারবার ফিরে আসে।
ক্যামডেনে ভালো কফি খুঁজে পাওয়া বেশ কঠিন ছিল—এমনকি ‘হার্ডিস’-এও তা শেষ হয়ে গিয়েছিল। তবে আমি দুইবার “দ্য আনআর্মড শেরিফ” বইটির কপি হাতে পেয়েছিলাম। প্রথম কপিটি ছিল উইলকক্স কাউন্টি লাইব্রেরিতে, যেখানে এক গবেষক আমাকে লামি সংক্রান্ত সংবাদপত্রের ক্লিপিং খুঁজে পেতে সাহায্য করেন। (“মিস্টার লামি!” তিনি বেশ আবেগপ্রবণ হয়ে স্মরণ করেছিলেন এবং জানিয়েছিলেন যে লামি একবার তাঁদের পরিবারকে একটি কুকুরছানা উপহার দিয়েছিলেন।) বইটি দ্বিতীয়বার দেখতে পাই ‘ব্ল্যাক বেল্ট ট্রেজার্স কালচারাল আর্টস সেন্টারে’—যা একটি অলাভজনক গ্যালারি ও দোকান, কোর্টহাউস থেকে এর দূরত্ব মাত্র পাঁচশ ফুট।
উইলকক্স কাউন্টির বাইরে বইটি পাওয়া বেশ দুষ্কর। আমাজনে একটি ব্যবহৃত কপি পাওয়া গিয়েছিল, যেখানে মাত্র দুটি রিভিউ ছিল। একজন পাঠক পাঁচ তারকা দিয়ে লিখেছেন: “চমৎকার বই, দারুণ পাঠ্য।” অন্যজন এক তারকা দিয়ে লিখেছেন: “এক মিনিট, এটি কি সেই ‘কুখ্যাত’ শেরিফ নন, যিনি ম্যাকডাফি নামের এক কৃষ্ণাঙ্গ নারীকে রাবারের পাইপ দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেছিলেন? … আমার বাবা আমাকে এবং আমার মাকে আমার জন্মের পরপরই আলাবামা থেকে বের করে নিয়ে গিয়েছিলেন, যার জন্য আমি আজ কৃতজ্ঞ।”
গিস বেন্ড একটি অসংগঠিত ছোট শহর, যা আলাবামা নদীর একটি বাঁকের গভীরে এমনভাবে অবস্থিত যে এটিকে কোনো দ্বীপের মতো মনে হয়। এখানকার পরিবারগুলোর শিকড় এবং পদবি সরাসরি দাসপ্রথার ইতিহাসের সাথে জড়িত। গৃহযুদ্ধের পর শ্বেতাঙ্গ জমির মালিকরা চলে গেলেও কৃষ্ণাঙ্গ বাসিন্দারা থেকে গিয়েছিলেন। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে নিকটস্থ সেতু দিয়ে ক্যামডেন থেকে এখানে পৌঁছাতে ৩৮ মাইল গাড়ি চালাতে হয়, যা প্রায় আড়াই ঘণ্টার পথ। অথচ ফেরিতে নদী পার হলে এই দূরত্ব মাত্র ছয় মাইল বা পনেরো মিনিটের।
১৯৪৯ সালে লামির মেয়াদে সরকার এই জনপদের নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয়। জনপদটি আগে বাগান মালিক জোসেফ গির নামে পরিচিত ছিল, কিন্তু সরকার এক বর্ণবাদী সিনেটরের নামানুসারে এর নাম রাখে ‘বয়কিন’। ১৯৬৮ সালে মার্টিন লুথার কিং জুনিয়রের হত্যাকাণ্ডের পর বাসিন্দারা তাঁদের এলাকার নাম পরিবর্তন করে ‘কিং’ রাখার আবেদন জানিয়েছিলেন। প্রায় ষাট বছর পার হলেও দাপ্তরিকভাবে এটি এখনো বয়কিন, তবে স্থানীয়ভাবে সবাই এটিকে ‘গিস বেন্ড’ নামেই চেনে।
২০১৮ সালের অক্টোবরের এক বিকেলে আমি ক্যামডেনে ফেরিতে উঠি। জলাধারটি পার হয়ে আমি বেন্ডের কাদাটে তীরে পৌঁছাই। সেখানকার ওয়েলকাম সেন্টারে সপ্তাহের দিনগুলোতে প্রবীণদের বিনামূল্যে দুপুরের খাবার দেওয়া হতো। আমি যখন পৌঁছাই, তখন কয়েকজন কুইল্ট নির্মাতা নারী খাবার বাছাই করছিলেন।
শেরিফ হিসেবে লামির শাসন প্রায় অর্ধশতাব্দী আগে শেষ হলেও অনেক নারীই তাঁকে স্পষ্টভাবে মনে রেখেছেন। একজন শ্বেতাঙ্গ আগন্তুক হিসেবে যখন আমি তাঁদের স্মৃতি হাতড়ানোর চেষ্টা করছিলাম, তখন শুরুতে তাঁদের মধ্যে কিছুটা জড়তা ও সতর্কতা লক্ষ্য করলাম। কিন্তু ধীরে ধীরে তাঁরা যখন সহজ হলেন, তখন তাঁদের কথা আর শারীরিক ভঙ্গি অনেক কিছুই বলে দিচ্ছিল। ৭৭ বছর বয়সী লোলা পেটওয়েকে যখন লামি জেনকিন্স সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম, তিনি এমনভাবে পিছিয়ে গেলেন যেন কোনো ভয়ংকর অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন। তিনি মিস্টার লামিকে মাঠের ধারে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখতেন, যেখান থেকে লামি তাঁর পরিবারকে তুলা তোলার কাজ তদারকি করতেন; সেই স্মৃতি আজও তাঁর শরীরে শিহরণ জাগিয়ে তোলে।
তৎকালীন ৮৩ বছর বয়সী ন্যান্সি পেটওয়ে আমাকে বলেন, তাঁর বিয়ের ঠিক আগে মিস্টার লামি বেন্ডে এসে তাঁর হবু স্বামীকে গ্রেপ্তার করে জেলে পাঠিয়েছিলেন। অভিযোগ ছিল—সে একটি আক্রমণাত্মক কুকুরকে পিটিয়ে মেরেছিল।
ওয়েলকাম সেন্টার থেকে বেরিয়ে কয়েক মাইল ধুলোবালি ও ঢেউখেলানো মাঠ পেরিয়ে আমি জন গ্রাগের খামারে পৌঁছাই। ৮৮ বছর বয়সী জন গ্রাগ একজন সুপরিচিত ধর্মপ্রচারক ও ভূস্বামীর ছেলে। তিনি লাঠিতে ভর দিয়ে দরজায় এসে আমাকে তাঁর ১৯৩০-এর দশকের পুরোনো ফার্মহাউসে স্বাগত জানালেন।
“লামি জেনকিন্স?” গ্রাগ তাঁর রিক্লাইনার চেয়ারে বসে নিজের মনেই হাসলেন। আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম, সত্যি কি লামি কোনো অস্ত্র বহন করতেন না? “অস্ত্র নিতেন না?” গ্রাগের কাছে প্রশ্নটি কৌতুক মনে হলো। “তিনি পিস্তল এবং লাঠি (নাইটস্টিক) দুই-ই ব্যবহার করতেন।”
আমি এ পর্যন্ত লামি জেনকিন্স সম্পর্কে যত প্রোফাইল, সম্পাদকীয় বা শ্রদ্ধাঞ্জলি পড়েছিলাম, সবখানেই তাঁকে একজন ‘অস্ত্রহীন শেরিফ’ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। কিন্তু গ্রাগের স্মৃতিতে এক ভিন্ন লামি ধরা দিলেন। তিনি শেরিফের গুপ্তচরদের কথাও মনে করিয়ে দিলেন, যারা সবসময় শেরিফকে স্থানীয় খবরাখবর সরবরাহ করত।
বেন্ডের লোকজনের সাথে কথা বলে আমি লামি জেনকিন্সের আরও কিছু অন্ধকার দিকের কথা জানতে পারলাম। তিনি যদি কখনো মেজাজ খারাপ অবস্থায় কোনো বাসিন্দাকে রাত আটটার কার্ফুর পর নদীর তীরে পেতেন, তবে শীতের মধ্যেও তাকে নদী সাঁতরে ওপাড়ে যেতে বাধ্য করতেন। শ্বেতাঙ্গদের আধিপত্য বজায় রাখার জন্য ‘ভয়’ ছিল একটি অপরিহার্য হাতিয়ার। যখন নাগরিক অধিকার আন্দোলন দানা বাঁধছিল, তখন লামি এবং তাঁর সহযোগীদের দমন-পীড়ন আরও তীব্র হয়ে ওঠে।
স্থানীয়রা জানান, ১৯৬২ সালে যখন ভোটাধিকার আন্দোলনের কর্মীরা উইলকক্স কাউন্টিতে আসতে শুরু করেন, তখন কর্তৃপক্ষ গিস বেন্ড ফেরি চলাচল বন্ধ করে দেয়। এর ফলে বাসিন্দাদের জন্য ভোটদান বা সরকারি সেবা নেওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। কথিত আছে, লামি তখন বলেছিলেন: “আমরা ফেরিটি এ কারণে বন্ধ করিনি যে তারা কালো; বরং তারা যে কালো মানুষ, সেটি ভুলে গিয়েছিল বলেই ফেরি বন্ধ করা হয়েছে।” সেই ফেরিটি দীর্ঘ ৪৪ বছর বন্ধ ছিল এবং ২০০৬ সালে ক্ষমা চেয়ে পুনরায় তা চালু করা হয়।
গিস বেন্ডের বাসিন্দারা আজও ১৯৬৫ সালে মার্টিন লুথার কিংয়ের সফর এবং সেলমার সেই ঐতিহাসিক মিছিলের কথা মনে করেন। তাঁরা মনে করেন শিশু-কিশোর বয়সে বৃষ্টিতে ভিজে কিং ও জন লুইসের সাথে মাইলের পর মাইল হাঁটার স্মৃতি। তাঁরা ভুলতে পারেন না ক্যামডেন কোর্টহাউসের সামনে জমায়েত হওয়ার পর লামি ও মেয়র অ্যালব্রিটনের নির্দেশে টিয়ার গ্যাস ও ধোঁয়ার বোমার আক্রমণ এবং নির্মম মারধরের কথা।
অনেকে এখনো মনে করেন ডেভিড কলস্টন কিংবা ডেলা ম্যাকডাফির পরিণতির কথা। আবার কেউ কেউ সেই বিভীষিকাময় সময়টি পুরোপুরি ভুলে যেতেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন।
ক্রিকেটের ইতিহাস
ফুটবলের পর ক্রিকেটই বিশ্বের দ্বিতীয় জনপ্রিয় খেলা। ২৫০ কোটি অনুসারী নিয়ে এই খেলার উৎপত্তি থেকে আধুনিক যুগ পর্যন্ত সম্পূর্ণ ইতিহাস জানুন।
অপরাধ, অভিশাপ ও প্রতিশোধ: মিয়াসমার গল্প
প্রাচীন গ্রিসে মিয়াসমা বলতে বোঝাত আধ্যাত্মিক দূষণ, যা সাধারণত অবাধ রক্তপাতের কারণে সৃষ্টি হতো।
মাতা হারি: জীবন, গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ ও লেগাসি
মাতা হারির জীবন, প্রথম বিশ্বযুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ এবং তাঁর বিতর্কিত লেগাসিের একটি বিস্তারিত অনুসন্ধান।